শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » মুক্তমন

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ কেমন হয়

রবি, ২৭ ডিসেম্বর'২০১৫, ২:৪৬ অপরাহ্ন


বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ কেমন হয়  
সাইফ জায়েদঃ ‘‘আমি পাইলাম,’আমি ইহাকে পাইলাম।’ কাহাকেপাইলাম। এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।” -অংশটুকু হৈমন্তী গল্পের…গল্পের প্রেক্ষাপটে যতটুকু সত্য ঠিক ঢাবির প্রেক্ষাপটেও ততটাই যুক্তিযুক্ত! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আবেদনময়তা একটু অন্যরকম। ভর্তি-পরীক্ষার বাঁধা পেরোনোর পর আমাদের অনেকের কাছেই ঢাবিকে পাওয়ার ঘটনা অপুর হৈমন্তিকে পাবার পর করা উক্তির মতোই মনে হয়।অনেক ভাগ্যবান মনে হয় নিজেকে,অনাগত সুখের রহস্যময় দিনগুলোর কথা ভাবতে ভালো লাগে। ভার্সিটিতে পড়াশুনা করতে হয়না। অল্প পড়লেই হয়। তারচেয়ে দুই তিনমাস কস্ট করে যে দুর্লভ জিনিসকে নিজের করে নিয়েছি সেই রহস্যময় ঢাবির ক্যাম্পাসের কোনায় কোনায় চিপায় চাপায় বসে নতুন কোনো রহস্যের খেলা খেলতে খেলতে ভার্সিটির জীবন পার করে দিবো। আহা কত সুখের হবে জীবন। ভাবনা গুলো বোধহয় এমনই হয়,কিংবা এমন করেই ভাবতে ভালবাসি আমরা। প্রথম ধাক্কাটা আসে ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়। ডিপার্টমেন্ট এর অফিসে কর্মরত লোকজন এর কাজকর্ম দেখে মনে হয় উনারাই সর্বেসর্বা। এই ভবন থেকে ওই ভবন,হল থেকে ডিপার্টমেন্ট,ব্যাংক থেকে ব্যাংক,সত্যায়ন করা কাগজ থেকে শুরু করে যাবতীয় জটিলতা দেখে মনে হয় চান্স পাওয়া থেকে তো ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার কাজ শেষ করা বেশি কঠিন। তবুও হাসিমুখে শেষ করতে হয় ভর্তি-প্রক্রিয়া। সামনেই তো আসছে সুখের দিন। ভর্তি শেষে ক্লাস শুরু হয়না,অনেক দিনের ছুটি। কিভাবে কাটাই…খারাপ লাগে,বোরিং লাগে,সিনেমা ভাল্লাগেনা,ঘুমাইতে ঘুমাইতে ক্লান্ত। ক্লাস শুরু করে দিলে কি হয়,সারাদিন ঘুরবো,খাওয়াদাওয়া করবো আড্ডা দিবো ,বিভিন্ন ক্লাবে যোগ দিবো,সামাজিক কাজকর্ম করে উল্টায় ফেলবো……কত কিছু ভেবে রাখা হয়,শুধু ক্লাসটাই শুরু হয়না ! হঠাত একদিন ক্লাস শুরু হওয়ার খবর আসে। শুরু হয়। সবাই পরিচিত হয়। ফোন নাম্বার এর আদান প্রদান হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে,এই প্রক্রিয়া-টা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে,এবং একই ব্যাক্তির নাম্বার কয়েকবার নেয়া হয় এমনো হয়ে থাকে। ঘনিষ্ঠতা করার এক কৃত্তিম আয়োজন চলে। কৃত্তিম বললাম কারন, অনেক অনেক দিন পর দেখা যাবে যে,কিছু বন্ধু শুধু ফোনবুকের নাম্বার হিসেবেই সেইভ করা থাকে,ওইসব নাম্বার থেকে ফোন আসে ও না,দেয়ার ও প্রয়োজন পড়ে না। এর মধ্যেই খুব হৈ চই পড়ে যায়। একতাবদ্ধ হতে হবে,ইউনিটি থাকতে হবে,উই আর ফ্যামিলি এই টাইপের শোরগোল ওঠে খুব। সেটার জোয়ার অবশ্য বেশিদিন থাকে না। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য ডাকসুতে যেতে হয়,ডাকসুর খিচুড়ি খেতে খেতে অনেক রকম গল্পের আদানপ্রদান হয়। সেলফি তুলতে হয়। হাটতে হাটতে টি.এস.সি অথবা কার্জন,সাথে রঙ চা অথবা দুধ চা। এতেই কাজ হয়। এর মধ্যেই এসাইনমেন্ট,প্রেজেন্টেশন আর মিডটার্ম যখন চলে আসে,তখন সবাই বুঝে যায় নয়ছয় করে আর নয়। প্রেশার,প্যারা শব্দগুলো খুব ইউজ হয় তখন ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে… ফার্স্ট সেমিস্টার এর দিনগুলো যায় খুব এলোমেলো ভাবে। জীবনবোধ খুব হালকা থাকে তখন। “আরেহ ধুর যা হয় হবে” টাইপের। হঠাত করেই যখন রেজাল্ট চলে আসে,তখন টাইপ চেঞ্জ হয়ে যায়। নাহ পরের সেমিস্টারে ফাটায় দিবো,এটেন্ডেন্স ১০০% সাথে সিজিপিএ ৩.৫ যেভাবেই হোক থাকবে এমন সিরিয়াস কাঞ্ছন এর মতো অনুভূতির প্রদর্শন চলে। ন্যাড়া একবার ই বেলতলায় গেলেও ভার্সিটির ন্যাড়া ৮ সেমিস্টারে ৮ বার বেলতলায় যায়। পরের সেমিস্টারে ভালো করার প্রতিশ্রুতি তাই নির্বাচনের আগে দেয়া নেতাদের আশ্বাস বানীর মতোই শুনায়। সময় কিভাবে যেনো সব পরিবর্তন করে দেয়। একটা সময় পর ইন্ডিভিজুয়ালিটি চলে আসে সবার মধ্যে। পড়ালেখা’র প্রতি অনিচ্ছা স্বত্তেও সিরিয়াসন্যাস চলে আসে। সময়ের অভাবে তখন সিনেমা দেখার সুযোগ হয়না। দুঃচিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা। কিছু কিছু সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। যোগাযোগ কমে যায়। ফোন এর কললিস্ট এ পরিবর্তন আসে। ভার্সিটি লাইফ হচ্ছে সব কিছু মেইনটেইন করে চলার লাইফ। কোনো এক দিকে অতিরিক্ত ঝুকে পড়লে অন্য সব দিক হারাতে হয়। প্রথম বছর-শিখায় অনেক কিছু। দ্বিতীয় বর্ষের শুরু করতে হবে ভুল ভুলে নতুন কৌশলে !!



এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close