শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » মুক্তমন

চবির ৪৯ বছরে ১৮ খুন , রক্তে লাল হচ্ছে ক্যাম্পাস কিন্তু বিচার হয়নি একটিরও

রবি, ২৭ ডিসেম্বর'২০১৫, ৩:২৮ অপরাহ্ন


চবির ৪৯ বছরে ১৮ খুন , রক্তে লাল হচ্ছে ক্যাম্পাস কিন্তু বিচার হয়নি একটিরও  
এম এইচ মাসুম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৪৯ বছরে ছাত্রসংঘঠন গুলোর মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হয়নি।রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আবার রক্তে লাল হচ্ছে ক্যাম্পাস। এখানে মূলত, ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ, শিবির-ছাত্রলীগের মধ্যে লেগে আছে হানাহানি। সর্বশেষগত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ছাত্রলীগের নিজেদের অন্তর্কোন্দলে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েতাপস পাল নামের এক শিক্ষার্থী মারা যান। নিহত তাপস পাল বিশ্ববিদ্যালয়েরসংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। এক বছর পার হলেও তাপস হত্যার হয় নি কোনো বিচার । তাপস হত্যার আসামীরা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেরাচ্ছে নির্ধিদায় । জানাযায়, গত ৪৯ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসবঘটনায় ১৮ জন শিক্ষার্থী খুন এবং পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছেন। হাত-পায়ের রগ কেটেদেওয়াসহ আহতদের মধ্যে পরবর্তীতে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী পঙ্গু হয়েদুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। একটি হত্যাকাণ্ড বা তদন্তের ঘটনা শেষ হতে না হতেইঘটছে আর একটি হত্যাকাণ্ড। এতে প্রতিবারের মতো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় কিন্তু এখন পর্যন্ততার কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোরকোনো রিপোর্ট বাস্তবায়িত হয়নি। যার ফলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো ঘটনাগুলোরকিছু দিন পরপর সংঘটিত হচ্ছে। এইসব হত্যাকাণ্ডসহ সহিংসতাও সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাবর তদন্ত কমিটি করা হলেওবেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলারবাহিনীর অসামর্থ্য ও কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবের কারণে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থানেয়া যায় না বলে মনে করেন অতীতে বিভিন্ন তদন্ত কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডেরবেশিরভাগই ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে। সর্ব প্রথম ১৯৮৩ সালে জাতীয় ছাত্রসমাজের কর্মী হামিদের হাত কেটে চবি ক্যাম্পাসে সহিংসতা শুরু করে ইসলামী ছাত্র শিবির।১৯৮৮ সালের এপ্রিলেশিবিরকর্মীদের হামলায় নিহত হয় পরিসংখ্যান বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমিনুলইসলাম। এরপর, ১৯৯০ সালের ২৩ ডিসেম্বরস্বৈরাচার পতনের পর ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের আনন্দ মিছিলে শিবিরের হামলায় নিহতহন ছাত্র মৈত্রীর নেতা ফারুকুজ্জামান ফারুক। আহত হন তৎকালীন উপাচার্য আলমগীরমোহাম্মদ সিরাজউদ্দিনসহ অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবরশিবিরের হামলায় আহত হয়ে ৯ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চবি ছাত্রদলেরসাংগঠনিক সম্পাদক ও চবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক (পরবর্তীতে কুষ্টিয়া ইসলামীবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য) অধ্যাপক এনামুল হকের ছেলে নুরুল হুদা মুছা। ১৯৯৭ সালে ক্যাম্পাসের মোজাম্মেলকটেজে ও পরের বছরের ৬ মে শাহ আমানত হলে শিবিরের হামলায় নিহত হয় দুই ভর্তিপরীক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বকুল ও আইয়ূব আলী। অবশ্য পরে ছাত্রলীগ ও শিবির নিহত দুজনকেতাদের কর্মী বলে দাবি করেছে। ১৯৯৮ সালের ১৮ মে নগরীরবালুচরা এলাকায় শিবিরের সন্ত্রাসীরা গুলি চালায় শিক্ষক-ছাত্র বহনকারী বাসে। গুলিতেনিহত হন চবি শিক্ষক আহমদ নবীর ছেলে ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) শিক্ষার্থী মুশফিক সালেহীন। একই বছরের ২০ অগাস্টচট্টগ্রাম বটতলী পুরাতন রেল স্টেশনের শিবিরকর্মীদের হামলায় গুরুতর হয়ে ২২ অগাস্টচিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেক হাসপাতালে মারা যান চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রইউনিয়ন কর্মী সঞ্জয় তলাপাত্র। এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীদেরহামলায় ১৯৯৯ সালের ১৫ মে জোবায়ের এবং একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর নিহত হয় রহীমুদ্দিন ওমাহমুদুল হাসান নামে শিবিরের তিন নেতা। ২০০১ সালেবিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২৯ ডিসেম্বর হাটহাজারীর ছড়ারকূল এলাকায়শিবিরের হামলায় চবি ছাত্রলীগের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আলী মতুর্জা চৌধুরী নিহতহন। এর বাইরেও ক্যাম্পাসেরক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে মামলার পাশাপাশি প্রশাসন তদন্তকমিটিও গঠন করে। কিন্তু কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়নি এবং দোষীদের কোনো শাস্তিওহয়নি। ২০১০ সালের ১১ফেব্রুয়ারি নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশনে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে নিহত হয় মহিউদ্দিনমাসুম এবং ২৯ মার্চ ফতেয়াবাদ এলাকায় রেল লাইনের পাশে হারুনর রশিদ নামে একশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া একই বছরের ১৫এপ্রিল রাতে ক্যাম্পাসে নববর্ষের অনুষ্ঠান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশনচত্বরে গ্রামবাসীর হামলায় নিহত হয় আসাদুল ইসলাম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী। ২০১২সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে নিহত হন শিবির নেতা মাসুদ বিনহাবিব ও কর্মী মুজাহিদুল ইসলাম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. খান তৌহিদ ওসমান ইউরো বিডি নিউজকে বলেন,আমরা যদি আসামীদের চিহ্নিত করতে পারি তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে । একটি হত্যাকাণ্ড আমরা চিহ্নিত করেত পাড়লাম কি পারলাম না সে জন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না তাতো না ।হত্যাকান্ডের বিচার রাষ্ট,পুলিশ প্রশাসন করবে । তিনি বলেন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হত্যাকান্ডেরই মামলা করা হয়েছে । শুধু মামলা করলেইতো হবে না ,তাঁর বিচার করতে হবে। আর এই বিচার করার দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্টের । রাষ্ট বিচার না করলে আমাদের কি করার আছে । তিনি আরো বলেন,আমার দেখা একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে । সেখানে একটি হত্যাকান্ডের জন্য চার জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে ।



এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close