শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

এটিএম বুথে হানা

শুক্র, ২৬ ফেব্রুয়ারী'২০১৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন


এটিএম বুথে হানা  
এটিএম বুথে কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেসরকারি সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাসহ পোল্যান্ডের নাগরিক থমাস পিটারকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সন্দেহ করে আসছিল, সম্প্রতি রাজধানীতে বেসরকারি ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিনে কার্ড জালিয়াতির যে ঘটনা ঘটছে তার সাথে একটি বড় আন্তর্জাতিক চক্রের হাত রয়েছে। পিওটর গ্রেফতার হওয়ায় সে আশঙ্কা সত্য হতে চলেছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তাও জড়িত। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরায় পাওয়া ছবি দেখে গ্রেফতার বিদেশি নাগরিক পিওটর সিজোফেন মাজুরেকের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সখ্য থাকার তথ্য পুলিশের হাতে। জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার প্রত্যেকেই সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড শাখার কর্মকর্তা।
সম্প্রতি ঢাকায় তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের ছয়টি এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করলে তার তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি― গ্রেফতারকৃত পিটার রুমানিয়া, রাশিয়া ও বুলগেরিয়ায়ও এই ধরনের অপরাধ করে এসেছেন। সেসব দেশে যাওয়া মাত্র তাকে গ্রেফতার করা হবে।
ইউসিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে জালিয়াত চক্র স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে তথ্য চুরি করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই যন্ত্র বসানো অবস্থায় বুথগুলোতে ১২০০ কার্ডের লেনদেন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪০টি কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন বলে তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।
এটিএম কার্ড জালিয়াত এই আন্তর্জাতিক চক্রটি এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সক্রিয় রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এটিই ছিল তাদের প্রথম অভিযান।
দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে এ কাজে আরও জড়িত আছেন লন্ডন প্রবাসী এক বাংলাদেশি, বুলগেরিয়া ও ইউক্রেনের একজন করে নাগরিক। এই চক্র আগেও অনেক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে তখন তারা আন্তর্জাতিক কার্ডে জালিয়াতি করত। এই প্রথম স্থানীয় কার্ড জালিয়াতির করতে গিয়ে ধরা পড়ল। তারা এটিএম বুথ থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে এর আগে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে বাংলাদেশিদের এটিএম বুথ থেকে টাকা জালিয়াতির কাজ শুরু করে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই সাইবার অপরাধে কোনো বিদেশিকে গ্রেফতার এটাই প্রথম।
এটিএম কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা যদি প্রকৃত জালিয়াত চক্রের সদস্য হয়ে থাকে, তাহলে বলা যায় তদন্তের কাজ কিছুটা হলেও এগিয়েছে। কিন্তু বর্তমান জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত প্রসঙ্গে যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো বাংলাদেশের এটিএম বুথ থেকে অনায়াসেই বিদেশিদের কোটি কোটি টাকা ইতোপূর্বে লুটে নিয়েছে জালিয়াত চক্র। বাংলাদেশিদের টাকায় হাত দিতে গিয়েই ধরা খেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশিদের অর্থে হাত না দিলে হয়তো বা চক্রটি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যেত। কিন্তু যেহেতু চক্রের সন্ধান শুরু হয়েছে, আমরা মনে করি এটিএম জালিয়াতির সব ঘটনাই তদন্তে আসা দরকার। তদন্তে আসা দরকার দেশে বিদেশে কারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত। দরকার হলে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সাহায্য নিতে হবে। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close