শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং নিয়ে প্রশ্ন

শুক্র, ১১ মার্চ'২০১৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন


অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং নিয়ে প্রশ্ন  
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। বিষয়টি এতদিন গোপন রাখলেও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, হাতিয়ে নেওয়া অর্থের অংশ বিশেষ দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাটি ঘটে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কিন্তু বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের বৈদেশিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দশ কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের ব্যবস্থায় হ্যাকিংয়ের কোনো প্রমাণ নেই। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে কি না― গোপনীয়তার যুক্তিতে সে ব্যাপারে মুখ খুলতে অস্বীকার করেছে ফেডারেল রিজার্ভ।
বিশ্বের প্রায় ২৫০টির মতো দেশের সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে টাকা জমা রাখে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৮০০ কোটি ডলার।
তবে ফেডারেল রিজার্ভের এই অস্বীকৃতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনে রয়েছে। বাংলাদেশের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
হ্যাকিংয়ের এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাক অফিসের (সিলিং) ৮ কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে র‌্যাব ও পুলিশের একটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে। এদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। হ্যাক হওয়ার ঘটনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যেহেতু কিছু অর্থ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে সেহেতু আশা করা যায় হ্যাক করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের বাকি অংশও ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার চেয়েও বড় দরকার পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া। কাজটির সাথে যদি শুধু হ্যাকাররা জড়িত থাকে তাহলে হয়তো তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে না, কিন্তু দেশে-বিদেশে যারা এই রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য দায়িত্ব পালন করেন তারা যদি এই হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িত থাকেন তাহলে তদন্তকাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ দরকার হতে পারে। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close