শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » ইসলাম

নামাজের সাথে কোরআনের সম্পর্ক কী?

শনি, ১২ মার্চ'২০১৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন


নামাজের সাথে কোরআনের সম্পর্ক কী?  
সন্তানকে যদি মা-বাবা কুরআন শিক্ষা দেন তাহলে আখিরাতে তারা অশেষ মর্যাদার অধিকারী হবেন। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন শেখে এবং (অপরকে) শেখায়। [বুখারি : ৫০২৭]

আল্লাহ তাআলা ঈমানদার বান্দাদের ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। কিন্তু এ কথা সত্য যে, কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। অর্থাৎ নামাজ আদায় করার জন্য অবশ্যই কুরআন শিখতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতোটুকু সহজ ততোটুকু পড়ো। [সুরা মুজাম্মিল : ২০]।
সন্তানকে যদি মা-বাবা কুরআন শিক্ষা দেন তাহলে আখিরাতে তারা অশেষ মর্যাদার অধিকারী হবেন। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন শেখে এবং (অপরকে) শেখায়। [বুখারি : ৫০২৭]
অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত মুআয জুহানী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পড়বে এবং এর ওপর আমল করবে তার পিতা-মাতাকে কিয়ামতের দিন এমন এক মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর্যের আলো হতেও উজ্জ্বল হবে; যদি সে সূর্য তোমাদের ঘরের ভিতর হয়। (তবে তা যে পরিমাণ আলো ছড়াবে সে মুকুটের আলো উহা হতেও অধিক হবে।) তাহলে সে ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা যে স্বয়ং কুরআনের উপর আমল করেছে’? [সুনানে আবু দাউদ : ১৪৪৮]
আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘সন্তানকে সুসন্তান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আরেক উত্তম পদ্ধতির নাম হলো সৎসঙ্গ। এজন্য প্রথমেই সন্তানকে ভাল সংশ্রবে রাখা দরকার’। কুরআন মজিদে আল্লাহ পাক বলেন,‘তোমরা সত্যবাদীদের সাথে থাকো’। [সুরা তাওবা : ১১৯] এর রহস্য হলো, সত্যবাদীদের সাথে থাকলে সত্যবাদী হওয়া যায়, আর মিথ্যাবাদীদের সাথে থাকলে মিথ্যাবাদী হওয়ার আশংকা রয়েছে। যা কুরআন-হাদীস, বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দ্বারাই প্রমাণিত ও অতি বাস্তব কথা। দুষ্ট প্রকৃতির ছেলে মেয়েদের সাথে কখনো নিজ সন্তানকে মিশতে দেয়া ঠিক নয়। সেজন্য সংশ্রবের ব্যপারে সতর্ক থাকা জরুরি। মন্দ সংশ্রবের কারণে বাচ্চাদের মধ্যে মন্দ স্বভাবের প্রভাব পড়ে। এক্ষেত্রে বলা যায়, সন্তান ভালো হবে না খারাপ হবে তা নির্ভর করে পিতা-মাতার কাছে। সন্তান যে পরিবেশে বড় হবে তা-ই সে শিখবে।
পিতা-মাতা যদি আদর্শবান হন এবং ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুযায়ী চলেন এবং সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন তাহলে সন্তান অবশ্যই ভালো হবে। আল্লাহ তাআলা এ পৃথিবীতে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহ তাআলা প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন ঠিকই কিন্তু সেই ধন-সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায় সে ধ্বংস হয়ে যায়। আবার কাউকে সন্তান-সন্ততি দেন ঠিকই কিন্তু তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটি হয়েছিল এক পুলিশ কর্মকর্তার ঐশী নামের মেয়ের ক্ষেত্রে। অথচ সন্তানকে কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করা হলে এ ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা খুবই কম থাকতো।
যাকে এই কুরআন শেখার তাওফিক দেয়া হবে সে বিশাল মর্যাদা ও ফযীলতের অধিকারী হবে। আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পড়বে, তার জন্য একটি নেকী লেখা হবে। আর নেকীটিকে করা হবে দশগুণ। আমি বলছি না একটি হরফ। বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ এবং ‘মীম’ একটি হরফ’। [তিরমিযী : ২৯১০]
আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে বাড়িতে সন্তান-সন্ততি নিয়মিত নামাজ পড়ছে কি না, কুরআন তেলাওয়াত করছে কি না। মনে রাখতে হবে একটি শিশু জন্মের পর থেকেই সাধারণত মায়ের কাছে থাকে। মা-ই তার প্রথম পাঠশালা। তাই সন্তান আদর্শ ও সৎ হওয়ার পিছনে মায়ের ভূমিকাই বেশি। একটি সন্তান পৃথিবীতে কতো বড় হবে, কতো ভালো হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে মায়ের ওপর। সেজন্য প্রথমেই মাকে সচেতন হতে হবে।
তাবেয়ী ইবরাহীম আততাইমী (র.) বলেন, ‘তাঁরা (সাহাবীগণ) শিশুকালে কথা বলা শিখলে তাকে মুখে মুখে কালেমা বলা শিখাতেন। যাতে শিশুর প্রথম কথা হয় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস : ৩৫১৯] দ্বিতীয়ত সাত বছর হলে শিশুকে নামাজের আদেশ দেয়া। দশ বছর হলে নামাজ না পড়লে প্রয়োজনে প্রহার করা, যা হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত। এরপর তাকে কুরআন শিক্ষা দেয়া। সাত বছর বয়সেই কুরআন শিক্ষা দেওয়া উচিত।
পরিশেষে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে এ কামনাই করি, প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা যেন প্রকৃত ইসলামের আদর্শে জীবন পরিচালিত করে। নামাজের প্রয়োজনে শুদ্ধ করে কুরআন শিক্ষা করতে পারে। আমীন।





এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close