শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়ে খেপলেন দুই প্রধান কবি

শনি, ১২ মার্চ'২০১৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন


রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়ে খেপলেন দুই প্রধান কবি  
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দুই প্রধানতম কবি নির্মলেন্দু গুণ ও অসীম সাহা । নির্মলেন্দু গুণ ১০ই মার্চ নিজের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের অবহেলা’র কথা উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন যে স্ট্যাটাসে তিনি নিজের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার দাবী করেন। নির্মলেন্দু গুণের স্ট্যাটাসটি কপি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অসীম সাহা। অসীম সাহা তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, ‘নির্মলেন্দু গুণ স্বাধীনতা পদক দাবি করেছেন। তাতে অনেকেই গোস্বা হয়েছেন! অনেকে এমন অশ্লীল কটাক্ষ করেছেন যে, তাদেরকে মাতৃগর্ভজাত বলে মনে হয় না! যেখানে শিশু না কাঁদলে মাতৃদুগ্ধ পাওয়া যায় না, সেখানে দাবি না জানালে নির্মলেন্দু গুণকে আরো কতো পরে স্বাধীনতা পদক দেয়া হতো, তা নিয়ে সংশয় আছে। গুণকে কেন এই দাবি জানাতে হলো? যারা মানুষের ভালোবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি মহৎ বাণী শুনিয়েছেন, তারা এতোদিন কোথায় ছিলেন? এতোদিন তারা কেন এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে দাবি জানাননি যে, নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হোক! পশ্চাদ্দেশে আল দেয়া যাদের স্বভাব, ছুতোনাতা পেলেই তারা সে কাজটিতে দারুণ পটু। আর আসল কাজের সময় তাদের টিকিটির দেখা মেলে না! এটা হচ্ছে কিছু বেয়াদব বাঙালির মজ্জাগত অভ্যাস।
আজ ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে শুধু কবিতার জন্যে আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। ১৯৬৪ সালে লেখালেখির শুরু। বাংলা একাডেমি আমাকে সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে ২০১১ সালে। কতো বছর হলো? এর আগে যাদের দেয়া হয়েছে, তাদের সকলেই কি আমার চেয়ে যোগ্য ছিলো? আমি নিজে থেকে কোনো পুরস্কার, পদক, সম্মাননা প্রভৃতির কোনো দাবি কখনো করিনি! কিন্তু যারা এখন বড়ো বড়ো বাণী শোনাচ্ছেন, তারা কেউ কখনো আমার পক্ষে দাবি তুলেছিলেন যে, ‘অসীম সাহাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হোক।’ কারা এখন ২১শে পদক পাচ্ছেন? তারা আমার চেয়ে কোনদিক দিয়ে, কতোটা যোগ্য? এক ‘ছাগল’ আমলার কারণে আমাকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে আসতে হয়েছিলো। তখন এই বাণী-প্রদায়করা কোথায় ছিলেন? তারা কি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন? তারা কি কোনোদিন আমাকে ২১ শে পদক প্রদানের জন্য কোনো দাবি জানিয়েছেন? যদিও তারা দাবি জানালেও কোনো কাজ হবে না! কারণ ওখানে দু/একজন দুর্দান্ত ক্ষমতাশালী আমলা বসে আছেন, যারা ২১শে পদক কমিটিতে ‘আমলাশক্তি’ প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না, তারা কমিটিতে থাকতে আমি কখনো ২১শে পদক পাবো না! তা হলে আমি কী করবো? চুপ করে থাকবো? আমি তো চুপ করেই আছি। কিন্তু যারা মহৎ মহৎ বাণী শোনাচ্ছেন, গুণকে, আমাকে কিংবা অন্যকে হেদায়েত করছেন, তাদের কণ্ঠ এতো মিহি কেন? তাই মুখগ্রন্থে বাহাদুরি দেখাবার আগে নিজ কর্তব্যটি পালন করুন। তারপর না হয় গুণ, আমি কিংবা যারা সত্য কথা বলতে ভয় পায় না, তাদের নসিহৎ করবেন।!!’
এবার নির্মলেন্দু গুণের স্ট্যাটাসটি নিচে দেওয়া হলো:
আমাকে স্বাধীনতা পদক দিন
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান 1976 সালে একুশে পদক প্রবর্তন করেন। বঙ্গভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রদান করা হয়।
পরে কবি জসীম উদ্দীন ও বেগম সুফিয়া কামাল একুশে পদকে ভূষিত হন।
অজানা কারণে আমি ঐ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলাম। কিন্তু তৎকালীন কেবিনেট সচিব শফিউল আজম একুশে পদকের মানপত্রটি ইংরেজীতে পাঠ করার প্রতিবাদ জানালে আমাকে বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে বের করে দেয়া হয়। তাই পুরো অনুষ্ঠানটি আমার দেখার সুযোগ হয়নি, যদিও আমার নিমন্ত্রণ পুরো অনুষ্ঠানের জন্যই বৈধ ছিলো।
সম্ভবত পরের বছর (1977) স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জেনারেল জিয়া একুশে পদকের পাশাপাশি "স্বাধীনতা পদক" চালু করেন।
জিয়ার সবই খারাপ বিবেচনায় জেনারেল জিয়ার বাকি অনেককিছু পরিত্যাগ করলেও তাঁর প্রবর্তিত একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক প্রদানপ্রথাটি শেখ হাসিনা ত্যাগ করেননি।এই পুরস্কার দুটি চালু রাখা হয়।
ফলে এক পর্যায়ে 2000 সালে শেখ হাসিনার সরকার আমাকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করে।
কিন্তু সেই পদক তিনি নিজহস্তে আমাকে প্রদান করে যেতে পারেননি। তখন নিয়ম ছিল প্রাপকের নাম ঘোষণার পরের বছর পুরস্কার দেয়া।
2001 সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া হাসিমুখে আমাকে একুশে পদক প্রদান করেন।
তারপর 15 বছর কেটে গেছে। এর মধ্যে আট বছর কেটেছে শেখ হাসিনার সরকারের। শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পদকের মুলোটি আমার নাকের ডগায় ঝুলিয়ে রেখেছেন।কিন্তু কিছুতেই সেটি আমাকে দিচ্ছেন না। উনার যোগ্য ব্যক্তির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হতে হতে আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্ত সেই তালিকায় আমার স্থান হচ্ছে না।
আমার একদা সহপাঠিনী, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার দৃষ্টে আমি প্রথম কিছুকাল অবাক হয়েছিলাম-- কিন্তু আজকাল খুবই বিরক্ত বোধ করছি। অসম্মানিত বোধ করছি। ক্ষুব্ধ বোধ করছি।
আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসেবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাঁকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভিতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনও রয়েছে।
পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে এক সময় আমাকে এই পদকটি দেয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close