শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » মুক্তমন

কিছু অপ্রিয় সত্য- আমি কি আসলে স্বাধীন?

সোম, ১৪ মার্চ'২০১৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ন


কিছু অপ্রিয় সত্য- আমি কি আসলে স্বাধীন?  
মানুষের মধ্যে অনেক কিছু থাকে। পরিমাণে হয়তো কিছু কম বা কিছু বেশি। তাই নিয়ে তারা হয়তো অনেকে অনেক কিছু ভাবতে থাকে। আমিও ভাবলাম যে কি কি থাকে আসলে মানুষের মধ্যে। যে কয়টা মনে আসে লিখতে শুরু করলাম। লেখাটা গতকাল ভোরের। আমি তখন ঘুমাইনি। ঘুম আসেনা আজ কাল আর সঠিক সময়ে। তাই মার্কার পেনটা হাতে নিয়েই গুনতে শুরু করে দেই আমাদের দেয়ালে টানানো সাদা বোর্ডটাতে। তার কিছু এখানে লিখছি-- Fear, Anger, Logic, Character, Decision making, Leadership, Responsibility, Happiness, Selfishness, Flexibility, Trust, Wisdom, Perfection, Satisfaction, Hard work, Tactics, Ability, Whom to trust, Revenge, Habits, Health Concern, Emotion, Prediction, Beauty, Brutality and Self-confidence and etc. আর নিজের উদাহরণ টেনে হিসাব শুরু করলাম আমি কোনটাতে কত। দেখলাম সময় আর অবস্থার প্রেক্ষিতে জিনিসগুলো শতকরা হারে পরিবর্তন ঘটে। ধরি যদি ভয়ের পরিমাণ ৯৫% হয় তো রাগ ৫% আর বুদ্ধি হয়তো ৩০% কাজ করে। আবার সাহস ৮০% হলে পরিশ্রম ৯০% আর দক্ষতা ৭০% এর ওপরে চলে যায়। অন্যদিকে লিডারশীপে কোন Decision নেয়ার ক্ষমতাও বেড়ে যায় সাথে সাথে Perfection এর হারও বাড়তে পারে তার সাথে নিজের ওপর Confidence. রাগ বেড়ে গেলে বুদ্ধি কমে যায় সাথে সাথে ভয়ও কমে, দক্ষতা কমে কোন কোন ক্ষেত্রে, Emotion, Health Concern ও কমে যেতে পারে। আসলে সব দোষ আর গুন নিয়েই মানুষ। আমি একটা প্রবাদ সবসময় শুনে এসেছি। DO OR DIE. আমি তার সাথে জুড়ে দিয়েছি DO DIE OR LEAVE. ডু আর লিভের জন্য সব অপশানগুলো খোলা। বেঁচে থাকলে সব গুলো নিয়েই থাকতে হবে। আর একটা ব্যাপার হল CIRCLE OF LIFE. জন্মাও, তারপর পড়াশুনা করো, তারপর চাকরী করো, তারপর বিয়ে করো, তারপর বাচ্চা দাও তাদের পড়াশুনা করাও তারপর তারা চাকরী করবে তারপর আরাম করে বাকি জীবন গেল কি- না গেল এরপর মরে গেলাম। এভাবেই চলতে থাকে। বাবার টাকা থাকলে তো হলই আরামের জীবন আর যদি না থাকে তাহলে নিজেকে চাকরির যাঁতাকলে পড়ে থাকা লাগবে যেটা করতে গিয়ে নিজের যৌবন শেষ হবে বুড়ো বয়সে আরাম করা যাবে এটা ভেবে ভেবে। ব্যাবসার ক্ষেত্রে নিজের নিজের চাকুরে সাথে অন্যদের বা নিজের ব্যাবসাকে দাড়া করানোর অনেকটা দায়িত্ব, কিন্তু ফলাফল ঐ যে বয়স শেষে আরাম করব। আমি না পারি আমার পরিবার গর্ব করে বলবে আমার সন্তান অমুক, আমি অমুকের ছেলে বা মেয়ে। যারা পারে না তাদের মুখই থাকে না সমাজে বা পরিবারে। আমি এমন কতজনকে চিনি যারা চাকরি / ভাল চাকরি না পাওয়াতে নিজেদের ছোট মনে করে। মানুষের আসলে অন্যদের দিকে তাকাতে তাকাতে নিজেদের দিকে তাকানোর সময় নেই। কাজ করি টাকা কামাই কিন্তু কাজকে ভালবাসি না। অন্যের ইচ্ছায় অধীন হয়ে যাই। যারা ওপরে উঠে যাই তারা উদাহরণ হয়ে যাই। যারা ঐ উদাহরণ হতে চাইনা নিজের উদাহরণ চাই তারা পারি না। যারা কিছুই পারিনা তারাও কিছু পারে যারা ঐ ওপরে থাকা মানুষটা পারে না। তাদের কাজের মূল্য থাকে না সমাজে। সবারি যেন বলার মত একটা চাকরি চাই। আর দিন দিন অসামাজিক হয়ে যাচ্ছি। ও ভাল চাকরি করছে আমি কেন ওর মত হতে পারছিনা। শহরে পাশের ফ্লাটে কে আছে জানছি না। কারো পাশে থাকছি না। যদি কাউকে দেখতে ইচ্ছা প্রকাশ করি সামনা সামনি মনে মনে বলি সে যেন না আসে। কথা বলার সময় নেই, মাস শেষে টাকা নেই, একই কাজ বার বার করতে করতে বিরক্ত, যাকে ভালবাসি বলি তার প্রতি ভালবাসা নেই, অফিস যাওয়া, পরিবার দেখা, খাওয়া আর ঘুম ছাড়া কোন কাজ নেই। অফিসের ছুটিও যদিওবা মেলে তারপরেও বাসায় আসার সময় অফিসটাকে মাথায় করে আনতে হয় অনেকের। মোটকথা যখন থেকে বিছানায় বসতে শিখেছি তার পর থেকে সবাই অধীনতাকে স্বীকার করে নিয়েছি। এটা একটা মধ্যবিত্ত আর নিন্মবিত্তদের ছবি মাত্র। Rafiquzzaman, BSc and MSc in EEE from KUET, junior ios developer in Encrypto.



এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close