শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

ঢাকঢোল পিটিয়ে কবিতা হয় না

মঙ্গল, ১৫ মার্চ'২০১৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন


ঢাকঢোল পিটিয়ে কবিতা হয় না  
[বোধের অংশীদার হওয়ার দাবি নিয়ে যিনি প্রেমিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান, যিনি প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে দেন মন থেকে মনে- সেই রফিক আজাদের জন্মদিন ছিল ১ ফাল্গুন। তিনি আলস্যে বুদ হয়ে থাকলেও, প্রতিবাদের ভাষা কখনো হারিয়ে ফেলেন না। এক পৌরুষ তার কবিতার মাঝে সারাক্ষণ যেন বিচরণ করে। তারপরও বিরহ তার চিরকালের সঙ্গী। কী এক সখ্য যেন তিনি গড়ে তুলেছেন প্রেম-বিরহের সাথে। তিনি সেড জেনারেশনের প্রণিধানযোগ্য কবি। ‘বহিরঙ্গে নাগরিক, আর অন্তরঙ্গে অতৃপ্ত কৃষক’ রফিক আজাদ। তিনি সত্যের কাছে দায়বদ্ধ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কখনো প্রেয়সীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হন বিনীত, আবার রুদ্ররোষে পুড়ে শোষকের সিংহাসনকে করেন স্তম্ভিত। আজ তিনি আমাদের মাঝে আর নেই! যে ফাল্গুনে তিনি এসেছিলেন আবার চলেও গেলেন সেই ফাল্গুনে। ২৮ ফাল্গুন রাত ৯টার দিকে চলে গেলেন তিনি। তার সাথে বছর খানেক আগে আলাপচারিতা হয়েছিল। সেই আলাপচারিতা গুরুত্ব বিবেচনায় পাঠকের সামনে আনা হলো ফের। আর এই আলাপচারিতাটি হয় কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদকশামস আরেফিন-এর সাথে। পড়ুন পাঠক তাহলে সেই আলাপচারিতাটি।]
আপনার রচিত ‘দ্য স্যাড জেনারশন’ এ বলেছেন ‘We are dynamite in our blood. We know it but we are helpless, simply undone’…এভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার কারণ কি?
সেই সময়ে অামরা যারা ষাটের দশকের, তাঁরা এই আলাদা পরিপ্রেক্ষিতে প্রভাবিত। কারণ ওই সময় সামরিক শাসন চলছিল। এর মাধ্যমে মূলত এক ধরনের বিদ্রোহ করা। আর রাজনৈতিক সচেতনতা থেকেই এ পঙ্‌ক্তি লেখা। সামরিক শাসন আমাদের বুকের উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। এর মাধ্যমে আসলে সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিদ্রোহ করি। যার লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসনকে প্রতিরোধ করা বা উড়িয়ে দেয়া। কিন্তু পদ্ধতিটা তুমি বলতে পারো Self Destructive । কারণ কবিরাই সমাজের সবচেয়ে সচেতন অংশ। আর তাঁকে তো— এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবেই। তাই কবিকে সমাজের প্রহরী বলা যায়। কারণ কবিরা সমাজের মূল্যবোধকে পাহারা দেয়।

পঞ্চাশের কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে সবচেয়ে অন্তরঙ্গ কবি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার সময়কার কানফেশনাল পোয়েট্রির ব্যাপারে কিছু বলেন?
আসলে তিনি ত্রিশের মূল স্রোত থেকে নিজেকে আলাদা করতে চেয়েছেন। কারণ ত্রিশের পঞ্চপাণ্ডব ও জীবনান্দ দাশ আধুনিক বাংলা কবিতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি সচেতনভাবে তা এড়িয়ে যান। তাঁর কাব্যভাষার প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও শঙ্খঘোষ— ৫০ এর দশকে কবিতায় এ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। শক্তিচট্টোপাধ্যায় শুধু পঞ্চাশের নয়, সারা বাংলার কবিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ কবি। আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও বিশেষ করে তাঁর ভাষাভঙ্গি ও কাব্যের বিষয় কনফেশনাল এর ভিত্তি ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। ৫০ এর দশকে এ কনফেশাল কবিতা আমেরিকায় প্রথম লেখা হয় শুরু হয়। তবে এ আন্দোলনের মধ্যে নেতৃত্ব প্রদান করেন অ্যালেন্স গিন্সবার্গ। এটা একটি প্রতীকী কবিতার আন্দোলন বলা যায়।
আপনি কবিতায় অনেক আধুনিকভাবে গ্রামকে উপস্থাপন করেছেন। তাই অনেকে আপনাকে নাগরিক কবি বলেন। সরাসরি নাগরিক জীবনের প্রভাবে প্রভাবিত হলেও আপনি গ্রাম বাংলাকে ভুলে যাননি। যেমন ‘শৈশবের পরিত্যাক্ত মাঠের ডাকে...’ আপনি সাড়া দিতে কার্পণ্য করেননি?
আমার কবিতার লাইন ধার করে তুমি বলতে পারো আমাকে ‘বহিরঙ্গে নাগরিক, অন্তরঙ্গে অতৃপ্ত কৃষক’।
ব্যক্তিজীবনে আপনার সহধর্মিণীর সমর্থন, সাহায্য কতটুকু পেয়েছেন। বাংলা সাহিত্য কি ভাবির এই সহায়তার জন্য ঋণী বলা যায়?
একজন কবি তার সহধর্মিণীর সমর্থন না পেলে তাঁর সৃষ্টিশীলতার ব্যাঘাত ঘটে। তাই সহধর্মিণী কবি হওয়া এ এক বড় প্রাপ্তি। বরং বলা যায় বাংলা সাহিত্যে যদি আমার অবদান থেকে থাকে, তবে তা আমার সহধর্মিণীর সাহায্যেই আছে।
ও-আমাকে সকল সাংসারিক দায়দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
আপনাদের সময়ে অতিরিক্ত আরবি ফার্সি শব্দের যথেচ্ছ ব্যবহারে ‘মুসলমানি বাংলা’ প্রচলনের বিরুদ্ধে আপনার শৈল্পিক প্রতিবাদ কবিতায় তৎসম শব্দের স্বছন্দ ব্যবহার। রাজনৈতিক স্বেচ্ছারিতার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদের ব্যাপারে তরুণ কবিদের ভূমিকা কেমন হতে পারে?
আমি একেবারেই তখন আরবি-ফার্সি বর্জন করে তৎসম শব্দ বেশি ব্যবহার করে কবিতা লেখা শুরু করি। মানে তখন ভাষা এতটা বিশ্রী হয়ে পড়ে, যে তা করতে বাধ্য হই। আমার সমসাময়িক বন্ধুদের মধ্যে কেবল আব্দুল মান্নান সৈয়দের মধ্যে এ তৎসম শব্দ ব্যবহার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এখনকার তরুণরাও পিছিয়ে নেই। তারাও তো অনেক আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে।
আপনি যখন বলেন, ‘তুমি চাও/মাটির উনুন শানকিতে শাদাভাত/পরিমিত নুন, স্বাদু তামাকের তাঁবু/ শাড়ির ভেতর এক আলুথালু নরম শরীর...’ এখানে তুমি কি নিজে?
আরে এই তুমিই হচ্ছে কবি রফিক আজাদ। আর নারীটি তো আমার সহধর্মিণী। আর এ কারণেই তোমরা আমাকে কখনো শুধু মাত্র নাগরিক কবি বলতে পারো না। কারণ ও আমাকে দায়দায়িত্ব থেকে রেহাই দিয়েছে। তা না হলে নিশ্চই আমাকে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। সেক্ষেত্রে হয়তো লেখালেখির সময় হয়তো কমে যেতো। তাই ও স্বেচ্ছায় সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ- যেমন ‘ এ কেমন কাল এলো’, ‘হাতুড়ির নিচে জীবন’, ‘পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ’, ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ সহ অনেক কবিতা। বর্তমান তরুণ কবিরা কতটুকু সচেতন বলে মনে করেন?
এ বৈশিষ্ট্য আমার কবিতায় সবসময়ই ছিলো। বর্তমানে তরুণদের হয়তো সেই অর্থে তাদের সমস্যগুলো অনুভূত হয়নি। হয়তো তারা কেবল লেখালেখি শুরু করেছে। কিন্তু যখন পরিণতির দিকে যাবে- তখন নিশ্চই তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হবে। কারণ কবিতা লেখার শুরু তো তুমি-আমি দিয়েই হয়। কী বলো?
সমালোচকরা বলেছেন; ‘যদি পঞ্চাশের কবি হন পরিশীলিত পরিপাটি ভদ্রলোক, ষাটের কবিকে বলা যাবে এক শাণিত যুবক’ আপনি এখন বার্ধক্যে পদাপর্ণ করেছেন। এ অবস্থায় কবিতায় কি শাণিত যুবকের মতো তারুণ্যের উপস্থিতি খুঁজে পান?
শারিরীক দূর্বলতা কিছুটা জেকে বসেছে। তবে আমার কবিতায় যে পৌরুষ নেই, তা কিন্তু তুমি কখনো বলতে পারবে না।
আপনার সমসাময়িক কবিদের সর্ম্পকে কিছু বলুন?
আমাদের সময়ে কাব্যভাষায় অতুলনীয় ছিল কবি আবুল হাসান। পরাবাস্তব ধারণা নিয়ে পুরোই আলাদা পথ তৈরি করেছে কবি আব্দুল মান্নান সৈয়দ। নির্মলেন্দু গুণ নিজে নিজেই পথ রচনা করেছে। আসাদ চৌধুরী আমার সহপাঠী হয়েছে লোকজ সংস্কৃতির প্রতিনিধি। আর সিকদার আমিনুল তৈরি করেছে দর্শনের আরেক জগৎ। সেই সাথে হেলাল হাফিজ হতে পেরেছে গণমানুষের কবি। সম্প্রতি ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছে। ও পুরস্কারটা আরও আগে পাওয়া উচিত ছিল। যা হোক দেরিতে হলেও পেয়েছে।
আপনাকে কবিতায় এক সময় বললেন, ‘ভাত দে হারামজাদা.....’ সেই আপনি ১৯৮২ সালে সশস্ত্র সুন্দরে লেখেন, ‘ হে কলম উদ্ধত হয়ো না নত হও, নত হতে শেখো... । আবার সেই আপনি মেকি রোমান্টিসিজম ভাঙতে বলেন, ‘মানুষ শব্দটি লিখে তাতে আমি মুতে দেই’ বিষয়টা কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?
আসলে আমার এ দ্বিতীয় কবিতাটি একটা স্যাটায়ার কবিতা।এর অর্থ এই নয় যে, আমার প্রতিবাদের স্বর কোমল হয়ে গেছে। এখানে আমি নেতিবাচক আসলে সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চেয়েছি। কারণ এ সমাজ সততা ও প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না।। অবশ্য সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমিও সমাজ পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত। আর তাই বলতে পারো এইভাবে লিখেছি।
বাংলা কবিতায় সাবলিলভাবে ‘হারামজাদা, পাদ দে,মুতে দেয় ও ভাত দে’র মতো প্রাত্যহিক বাংলা ভাষা আপনার হাত ধরে আগমন করেছে। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
এই শব্দগুলো হলো বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশ। নির্দিষ্ট করে কবিতার কোন ভাষা নেই। যে কোন শব্দই কবিতার ব্যবহার যোগ্য। কারণ হলো সমাজের সুশীল ভাষা পরিশীলিত ভাষা ব্যবহার করলেই যে কবিতা হবে- তা না। বরং অচ্ছুত শব্দ- যা উচ্চবিত্ত এড়িয়ে যাচ্ছে, তা ব্যবহার করেও নতুন ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করা যেতে পারে। সুশীলের রুচিতে আঘাত দেয়ার প্রচেষ্টা। এর আগে যেমন কবিতার ভাষা বলে নজরুল-রবীন্দ্র যুগে মম, তব ইত্যাদি ব্যবহার করা হত। এটাকে ভেঙে হলো আমার-তোমার। আর ষাটের দশকেও এ শব্দগুলো এক ধরনের নিরীক্ষা বলা যায়।
ষাটের কবিরা ত্রিশের কবিদের কাব্যার্দশ কিংবা ত্রিশোত্তর কাব্যভাবনাকে গ্রহণ করেনি। অনেক তরুণ জীবনান্দকে না বুঝেই অতিরিক্ত পশ্চিমাঘেষা কবিতা লিখে যাচ্ছে, যা ইংরেজিতে অনুবাদ করলে মনে হবে পুরোপুরি ইংরেজি কবিতা; এ ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী?
হ্যাঁ অবশ্য বর্তমান তরুণদের আধুনিক কবিতা বোঝাটা জটিল। তবে কবিতা বুঝতে পাঠককেও একটু প্রস্তুতি নিতে হবে। বা পাঠকও সচেতন ও পরিশীলতা হতে হয়। অর্থাৎ কবিতার পাঠককে সহৃদয়-হৃদয়-সংবাদী হতে হয়। কিন্তু ইচ্ছে করে দুর্বোধ্যতা আরোপ করার মানে নেই। যদি অবশম্ব্যভাবী আসে তবে, তা গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে বাক্যের পারম্পর্য তো অবশ্যই রাখতে হবে। কারণ কবিতায় পারম্পর্য না থাকার তো কোন কারণ নাই। কবিতায় উলম্ফন থাকতে পারে। কিন্তু একেবারে পূর্বের সাথে পরের অর্থের মিল থাকবে না—এটা ঠিক না। তবে তা কেমন করে কবিতা হয়?
আপনি আপনার কবিতাকে একসময় ‘পদ্যপ্রবন্ধ’ বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। এ সুযোগে সমালোচকরা আপনার কবিতাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করে আপনাকে ‘পয়ারবন্ধ, রচয়িতা বলেন। বিষয়টিকে কাব্যহিংসা বলে কী ব্যাখা করা যায়?
আমি বলেছি, কারণ আমার কবিতার মাঝে চিরকালই একটা থিম বা মেসেজ থাকে। এ কারণে তা প্রবন্ধের বিষয় হতে পারত কবিতা না হয়ে। সেই অর্থে- মানুষ যাতে কোন কিছু জানতে পারে, তা নিয়েই আমি কবিতা লিখেছি। যেমন আমার কবিতায় আমি ‘সুতোর এপারে মানুষ আর ওপারের মানুষ’ এর মাঝে তফাৎ বুঝিয়েছি। কারণ মানুষ এপারের সূতার নির্দিষ্ট পরিমাণ সীমা অতিক্রম করলে মৃত্যুবরণ করে। অর্থাৎ ইহকাল ত্যাগ করে পরকালে চলে যায়। বা বলতে পারো স্বাভাবিক মানুষ একসুতো বেশি অতিক্রম করলেই অস্বাভাবিক পাগল হয়ে যায়। এটা একটা বিশাল থিম বলা যায়। আর কাব্যহিংসা তো চিরকালই আছে কবিতায়, আর আজীবন তা থাকবেও।
চিত্রকল্প না বক্তব্যপ্রধান কবিতার ক্ষেত্রে আপনার আকর্ষণ?
রফিক আজাদ : আমার কবিতায় অনেক চিত্রকল্প রয়েছে। বর্তমানে লেখা আমার কবিতাকে চিত্রকল্প প্রধান বলা যায়। আবার আমি একটা বড়ো সময়ব্যাপী বক্তব্য প্রধান কবিতা লিখেছি। সেটাও এক ধরনের প্রতিবাদ। কারণ অনেক কবিতা পড়তাম সমসাময়িককালে যাতে কোন বক্তব্য নাই। কবিদের কোন বলার কিছু নাই। খালি নেশার ঘোরে শব্দ সাজিয়ে যাচ্ছে। কিছু উদ্দেশ্য তো থাকতেই হবে। একটা স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। যার উপর ভর করে কবিতাটি দাঁড়িয়ে থাকে। হাওয়ার উপর কবিতাটা ছেড়ে দেয়া যায় না। এটা আমার বিশ্বাস।
একবার একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের অভাবে আপনি নিজের জন্য চুমুর বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন বিষয়টি কি সত্য?
হ্যাঁ; আমি যখন বাংলা একাডেমিতে চাকরি করতাম, তখন বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদক ছিল কবি শাহাদাৎ চৌধুরী। তিনি আমাকে ডেকে বললেন আসলে আমাদের কিছু সৃষ্টিশীল বিজ্ঞাপন তৈরি করার দরকার। আমি বললাম তাহলে আমি চুমুর বিজ্ঞাপন দেই। ‘একটি চুমুর বিনিময়ে একটি কবিতা উৎসর্গ হবে’। আসলে এর মাধ্যমে আমি দেখতে চাইছিলাম সমাজে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আসলে চুমু মানে যেই ঠোঁটে চুমু, আমি কিন্তু তা বুঝাইনি। কিন্তু অধিকাংশ তাই বুঝল। মিরপুর থেকে এক মেয়ে লিখে পাঠালো-ইচ্ছে তো হয়,তবে লোকলজ্জার ভয়ে পারি না। আবার কেউ কেউ ইনভেলাপে করে কিছু অবাঞ্চিত জিনিস পাঠায়। এর মাধ্যমে নাদীরা মজুমদার নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আসে। তিনি বাংলা একাডেমিতে আমার অফিসে প্রবেশ করে বুঝতে পারেন রফিক আজাদ কে? তিনি আমাকে বললেন, ‘আমি রাজী’। আমি তখন বললাম, ‘দয়া করে আপনার হাত বাড়িয়ে দেন, আমি আপনার হাতে চুমু খাই’। তারপর আমি নাদিরার হাতে চুমু খেলাম। আর কয়েকদিনের মধ্যে নাদীরা আমার ভালো বন্ধুতে পরিণত হল। বর্তমানে ও ইউরোপে থাকে। এখনও ফোনে আমার খোঁজখবর নেয়।
বোদ্ধারা বলেন একজন কবির জীবনে প্রেমের ভূমিকা অনস্বীকার্য—আপনি কী বলেন?
ভেতরে -ভেতরে প্রেম অনেক কাজ করে। প্রেম না থাকলে মানুষ কবিতা লিখতে যাবে কেনো? মানব-মানবীর সর্ম্পক কবিতায় অনেকটা অনুপ্রেরণার কাজও করে। প্রেমটা কবিতাকে ত্বারান্বিত করতে পারে। কবি এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারে।
ভাই একটু যোগ করতে চাই-তবে বিরহের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
প্রেমের সাথে সাথে বিরহেরও ভূমিকা আছে কবিতায়। কারণ মিলন আর বিরহ এ দুটো মিলেই সম্পূর্ণ প্রেম হয়। মিলনেরই সুখ ও বিরহের দুঃখগুলো প্রেম বা এই দুয়ের যোগফলই প্রেম।
আপনার জীবনে কখন-কীভাবে প্রেম এসেছে?
এক তো আমার সহধর্মিনী প্রেমেরই ফলশ্রুতি। এক সময়তো ও আমার কবিতার অনুপ্রেরণা ছিলো দীর্ঘদিন। এখনও কোন প্রেমের অনুষঙ্গ আসলে, তাঁর মুখটাই ভেসে আসে স্বাভাবিকভাবেই। লেখালেখির ক্ষেত্রে সবসময় আমার সহধর্মিনীর এই প্রেম বা সব ক্ষেত্রেই কাজে দেয়। মানে তোমাদের ক্ষেত্রে না- আমার ক্ষেত্রে। হা হা হা...।

একজন কবির সামাজিক দায়বদ্ধতা কতটুকুন?
কবির তো অবশ্যই সমাজরে প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। দায়বদ্ধতা থেকেই সামাজিক প্রতিবাদগুলো উঠে আসে। অন্যায় অবিচার নানারকমের নিপীড়নের বিরুদ্ধে কবিরাই প্রথম দাঁড়ায়। যেমন সংখ্যলঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের সময় আয়োজিত কবিতা পাঠ করেছি কদিন আগেই। আর কালই তো প্রেসক্লাবে ঘাসফুল আয়োজিত কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করি। তাই কবিরাই প্রথম ক্রাইসিসের সময় এগিয়ে আসে। আর তাই দায়ব্ধতা থেকেই লেখালেখিটা শুরু হয়। সমাজের প্রহরী হল কবিরা। আসলে সমাজের মূল্যবোধকে পাহারা দেয় কবিরা।
কবিতাকেন্দ্রিক স্মরণীয় মুহূর্তের স্মৃতি বলুন?
আমি যখন আমেরিকায় যায়, আমেরিকায় আমার সম্মানে সমসাময়িক কবিরা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেটা আমার জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তবে কবিতা নিয়ে স্মৃতিমূলক ঘটনা- যখন প্রায়শই দেখি যুবক-যুবতীদের কেউকেউ বলে, ‘আপনার কবিতা দিয়ে আমরা প্রেম করেছি।’ তারা যখন এসব বলে- সে মুহূর্তটা যে কতো আনন্দের। আমার পুত্রকে যখন আমি তার জীবন সঙ্গী নির্বাচন করতে বলি, তখন সে বলে, ‘আমি তো সেই বাবার কবিতার মতো বোধের অংশীদার হওয়ার মতো কোন মানবী পাচ্ছি না। বলেন- কে আমার দীর্ঘ পথে সাহস জোগাবে? এ রকম না মিললে তো বিপদ।’ তখন আনন্দ চেপে রাখতে পারি না।
আচ্ছা ভাই বোধের অংশীদার বলতে সম্পূর্ণ অর্থে কি বুঝিয়েছেন?
আমার যে শিল্পবোধ বা জীবনবোধ, দুঃখ ও বেদনাবোধ এ সবের অংশীদার না হলে, সে কী করে আমার সহধর্মিনী হবে। সামাজিক দায়ব্ধতা বা অনুভূতি যদি ভাগাভাগি না করা যায়, তবে কীভাবে এক সাথে থাকা যায়?
কবিতার জন্য মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে কেমন লাগে?
আমার এরকম প্রায়ই হয়। হয়তো ধরো কবিতা মাথার মধ্যে ছিলো থিম। হঠাৎ করে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায়, কারণ কবিতা তখনও মাথা থেকে নামাতে পারিনি খাতায়। আর হয়তো এ না পারার কারণেই ঘুমটা ভাঙে। তখন সাথেসাথে লিখতে বসি। একটা কবিতা পরিপূর্ণ হলে তখন যে আনন্দ হয়, তার কোন তুলনা নাই।
আচ্ছা তখন ভাবী কি বিরক্ত হয় না। আর আপনারও মনে হয় না, লাইট জ্বালিয়ে ভাবীকে কষ্ট দিচ্ছেন?
আমাদের বেডরুম আর লেখার রুম আলাদা। আর আমি তখন বেড়ালের পায়ের মতো সন্তর্পনে ঘুম থেকে উঠি। তোমার ভাবীও তো কবিতা লিখে। তাই উনিও তার মতো করে মধ্যরাতে ওঠেন। মাঝ রাতে যখন দেখি তোমার ভাবী বিছানায় নেই, উঁকি দিয়ে দেখে ও লেখার টেবিলে। তখন আর বিরক্ত করি না। আর আমাদের মাঝে কবিতা নিয়ে কোন বিরোধ হওয়ার কথা নয়। কারণ বিয়ের পর আমরা দুজনেই এক সাথে রাতে বসে কবিতা আবৃত্তি করে রাত পার করে দিতাম। সেদিনগুলো এখনও মনে পড়ে।
আপনি ও আপনার সহধর্মিনী দু’জনেই প্রতিষ্ঠিত কবি। বলা যায় বাংলাদেশে আপনি দ্বিতীয় সৌভাগ্যবান কবি।
আসলে সত্য বলতে কি, আমি নিজেও ভাবিনি আমার এ অতিরিক্ত সুবিধাটা আছে। তবে বলা যায় বাংলাদেশে আনোয়ারা সৈয়দ হক আপাকেও তুমি বলতে পারো। কারণ তিনিও লেখেন। আর সৈয়দ হককে পুরোপুরি সহযোগিতা করেন। তবে আমার মতো কবি গিন্নি সৈয়দ হক ভাইয়ের নেই। সে দিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান। এখন আসলে আমাদের দুজনের আর এক সাথে কবিতা পড়া হয় না। অবসর কম। সংসারের দায়দায়িত্ব বেড়েছে। আর তাই আমার গিন্নিকে রাতেই লেখতে দেখি।
বাংলাদেশের কবি মুক্তিযোদ্ধা বলা যায় আপনাকে?
অনেকেই করেছেন এ মুক্তিযুদ্ধ। তবে কলম ফেলে রণাঙ্গনে যাওয়া কবি আমি রফিক আজাদ। আসলে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া মানে তো জীবন দিতেই যাওয়া। যেখানে ফিরে আসাটা বাড়তি পাওয়া।
আপনাকে লিটলম্যাগের প্রবর্তক বলেন অনেকে। কেনো বিষয়টা কি একটু ব্যখ্যা করবেন?
আসলে অমারই প্রথম উদ্যোগে স্বাক্ষর নামের একটা লিটলম্যাগ হয়। আমাদের কাগজে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্পাদক নির্বাচন হত। এক সংখ্যায় আমি ও মান্নান সৈয়দ থাকলে আর এক সংখ্যায় অন্য দুজন কবি থাকত। মূলত কাজ আমিই করতাম। কিন্তু সম্পাদনায় নাম ব্যবহার করতাম দুজন। আমাদের মধ্যে এই বোঝাপড়াটা আমাদের ছিল।
জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আপনি। কবিতা পরিষদ প্রতিষ্ঠাকালীন স্মৃতিময় কোন ঘটনা আছে কী?
১৯৮৭ সালে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা করতে গিয়ে কবিতা পরিষোদের সৃষ্টি। কারণ এরশাদ কবিদের মাঝে একটা বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিল। তিনি তার কতিপয় অনুগতদের নিয়ে কবিকণ্ঠ নামের একটা সংগঠন সৃষ্টি করে। তার বিপরীতে শামসুর রাহমানকে প্রধান করে আমরা জাতীয় কবিতা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করি । যাতে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রাখে ফয়েজ আহমেদ। শিল্পী কামরুল হাসান ভাইও আমাদের সাথে ছিলেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমরা কবিরা সবাই মিলে ফেব্র“য়ারি ১ ও ২ তারিখ কবিতা পাঠের আয়োজন করি।
একটু যোগ করি তখন তো রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। রুদ্রও প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন?
রুদ্রকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি। ও আমাদের কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিল। রুদ্র একজন নিরেট কবি। যার বেশ কিছু কবিতা আছে ভালো লাগার মতো। আমি তার সাথে কতো যে আড্ডা দিয়েছি। আমাদের সর্ম্পক ছিল ছোট ভাই বড় ভাইয়ের মতো।
আমরা বর্তমানে আপনার মাঝে আড়ালে থাকার প্রবণতা একটু বেশি লক্ষ্য করছি ব্যাপারটা খুলে বলবেন কি?
হ্যাঁ বিশেষ করে ইদানীং আমি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, টিভি চ্যানেলগুলোকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছি। আমার ভেতর থেকেই কেন জানি প্রচার-প্রচারণা আসে না। আত্মপ্রচারে আমার আগ্রহ কম। আমি কাজ করতে পারলে বাংলা সাহিত্য নিশ্চই আমাকে মনে রাখবে। তখন আমার সাহিত্যকর্মের প্রচার তো হবেই। ঢাকঢোল পিটিয়ে কবিতা হয় না। সবসময় শিল্প-সাহিত্য নিভৃতে থেকে চর্চা দাবি করে। কারণ কবিতাকে রুপ দিতে গেলে নিভৃতিটা বর্তমানে খুব প্রয়োজন।
ষাটের দশকে আবুল হাসান কাব্যভাষার রুপ ও প্রকরণ, সিকদার আমিনুল হক মৃত্যুচিন্তা ও ফরাসি অ্যবস্ট্রাটিজম, মহাদেব সাহা- প্রেম, বিরহও বেদনা, আব্দুল মান্নান সৈয়দ পরাবাস্তবতা, আসাদ চৌধুরী লোকজ সংস্কৃতি ও রাখালের বাঁশি হাতে, আর হেলাল হাফিজ সহজ সাবলিল কাব্যভাষায় প্রেমের উপস্থাপন ও বক্তব্যপ্রধান কবিতা। ষাটের দশক এত সহজে কবিতার সফলতা কেনো পেলো বলে মনে করেন?
কেনো জানি ষাটের দশকে কবিতার একটা জোয়ার এসছিল। আমার মনে হয় এক্সপ্রেশনটা এ কারণে কবিতা নানা অনুষঙ্গে কথা বলে। আর নানা অনুষঙ্গে আসল ব্যাপারটা আড়ালে রেখে শুধু চিত্রকল্প ও উপমা অলংকার দিয়ে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কবিতা মূলত স্বাধীনভাবে প্রতিবাদ করার মাঠ তৈরি করে দেয়। যে ভাষা শাসকরা কখনো বুঝত না। যাতে করে কবিতা জনসাধরণের ভাবের বাহক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৫২, ৬৯, ৭১ ও ৭৫ আপনাদের কবিতার খোরাক জুগিয়েছে বললে কি ভুল হবে?
না তুমি ঠিক বলছো। কারণ পঁচাত্তরের যে ট্রাজেডি তা স্বল্পসময়ে এ জাতিকে স্তব্দ করে দিয়েছে। বিশেষ করে এতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও ছিলো বলা যায়। তারা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য এই কাজ বাস্তবায়ন করে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছে আমরা তা সফল হতে দেইনি। এটুক আমাদের অবশ্যই অবদান। জনগণ কিন্তু কোনভাবে এ ধরনের প্রতারণা মেনে নেই। কবিদের কারণে জনগণ সবসময় সচেতন ছিল।
আপনি এককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। কোন কোন মহৎ পণ্ডিতকে আপনারা শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন?
শিক্ষক ছিলেন আমার ড.আনিসুজ্জামন, ড. রফিকুল ইসলাম, মো মনিরুজ্জামান ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল। প্রফেসর মুহম্মদ আব্দুল হাই আমাদের শিক্ষকও ছিলেন। খুবই বড়ো মাপের মানুষ ছিলেন, পন্ডিতও ছিলেন। মোফাজ্জেল হায়দার চৌধুরী ও মুনীর চৌধুরী। আমাদের আদর্শ ছিলেন মুনীর চৌধুরী। তিনি অসম্ভব আধুনিক ও অগ্রসর ছিলেন। আমাদের সাথে তার তখন আশ্চর্যরকম সর্ম্পক ছিল। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ নক্ষত্রের মিলন মেলা ছিল। শিক্ষকরা ছিলেন খুবই যোগ্য। ছাত্র-শিক্ষক সর্ম্পক ছিল অসাধারণ। আমাদের ঐ সময়ে সাহিত্য সম্মেলন এর আয়োজন করেন আমাদের শিক্ষকরা।
আপনার সহপাঠী কোন বন্ধুর কথা মনে পড়ে কি?
আমার সহপাঠীরা প্রায় সবাই বিখ্যাত । যেমন শহীদুর রহমান, বুলবুল খান মাহবুব, ইমরুল চৌধুরী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আসাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক, আব্দুল মান্নান সৈয়দ।
বর্তমানে বাংলা কবিতার রাজধানী ঢাকা না কলকাতা?
আমি তো গর্ব করে বলি বাংলা কবিতার রাজধানী ঢাকা। এটা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও বলে গেছেন। এটা স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, কলকাতা কেন্দ্রীক যে কাব্যচর্চার প্রাধান্য ছিল, বর্তমানে ঢাকা তা দখল করে নিয়েছে। যে ভাষায় লেখলেখি হয়, সে ভাষার যদি মর্যাদা না থাকে মানে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ হয়; তবে আর সে ভাষার অগ্রগতি হয় না। তার চর্চাও কমে যায়। কলকাতায় যারা বিখ্যাত সাহিত্যিক, দেখা গেছে তাদের বাচ্চা-কাচ্চা কেউ বাংলা ভাষা জানে না। তার পড়াশুনা করেছে ইংরেজিতে, কথা বলে হিন্দিতে। ঐ হিন্দি আর ইংরেজি তাদের অবলম্বন। এই হিন্দি আর ইংরেজি বাংলা ভাষাকে গ্রাস করে ফেলেছে। দেখা যাবে ঐ পশ্চিম বঙ্গের ভাষা একদিন হিন্দি হয়ে গেছে।
বর্তমানে হিন্দি বা ইংরেজি কার্টুন দেখে শিশু-কিশোর রা হিন্দিতে কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব আমাদের বড়দের আচার আচরনে লক্ষ করার মতো। আপনি কি এ ধরনের আকাশ সংস্কৃতিকে বাংলা সংস্কৃতির জন্য হুমকি মনে করেন?
একটুতো ক্ষতি করছেই। আর তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। অবশ্য এ ব্যাপারে সচেতন আছে আমাদের কেউ কেউ। তবে এসব দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির মতো সংস্কৃতিকে গ্রাস করা যাবে না। একটা ব্যাপার কি এসব আইন করে বন্ধ করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা তৈরি করা। আমি অবশ্য আশাবাদী এ কারণে যে আমাদের ফেব্র“য়ারি মাস আছে। আর তখন এসব অপসংস্কৃতির ধারক-বাহকরা গুহায় লুকিয়ে পড়ে। আমাদের ৫২ আমাদের ভাষার পাহারদার।
ভাই আজ আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম। আমাকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ভাই।
না; কষ্ট কিসের তরুণ বা অনুজরা যদি অগ্রজদের কাছে না আসতে পারে, তবে অগ্রজ হবো কী করে। তুমি আবার এসো। তোমাকেও ধন্যবাদ আমার সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close