শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

ভাবনার কোনো গ্রামার নেই, থাকে না কোনো সীমারেখা : সারাজাত সৌম

বৃহঃ, ১৭ মার্চ'২০১৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন


ভাবনার কোনো গ্রামার নেই, থাকে না কোনো সীমারেখা : সারাজাত সৌম  
আজ পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো কবি সারাজাত সৌম’র একগুচ্ছ কবিতা ও কবিতা-ভাবনা।
কবিতা-ভাবনা
কবিতা কেমন? এটা কি দেখতে বাঘের মতো (স্বভাব অর্থে) নাকি কোকিল মতো (স্বভাব অর্থে) ? এমন হাজারটা প্রশ্ন আর কৌতুহল থাকতে পারে বা আছে মানুষের মানে। অবশ্য আমি তাকে কোকিলের মতোই ভাবি কিংবা দেখি। যে সবার আড়ালেই থাকে অথচ তার কি মিষ্টি সুর বা শব্দ, যে কারো প্রেমকে উসকে দিতে পারে যখন তখন! আসলে শব্দ বললাম কবিতার অর্থেই কারণ এই শব্দ দিয়েই আমরা শেষ পর্যন্ত কবিতা বানাই বা লিখি। আমি আকাশের দিকে তাকাই কেননা সে অসীম আর এতো এতো উজ্জ্বল তারা, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ দিয়ে ঘেরা তার শরীর যে আমাকে খুব ছোটই মনে হয় তখন। আবার তাকে ঘিরে থাকে এক অতল আঁধার যা মানুষের মনে অভাবনীয় ভাবনা বা কল্পনা করতে সহায়তা করে। এভাবে মানুষেরাও নানা মতের নানা ভাবনার হয় কিংবা নানা রঙের। তবে মানুষের চেয়ে কবিতার চেহারা একটু আলাদাই। যেহেতু এটা যে লিখে বা বানায় তাকে একটু ভিন্ন হতে হয়। সেটা সামাজিক বা রাজনৈতিক, প্রেমে কিংবা বিরহের যেদিক দিয়েই হোক তাকে আলাদা হতেই হয়। আমি বিশ্বাস করি কবিতার ভেতর একটা কোকিল স্বভাব আছে এবং সে তার লাল চোখ দিয়ে সেখানে আলো ফেলে আর তার কণ্ঠ দিয়ে অক্ষরকে মিষ্টি সুর দান করে। আর এগুলো হলো আমার মোটামোটি ভাবনার বিষয়। তবে ভাবনার কোনো গ্রামার নেই, থাকে না কোনো সীমারেখা, সেও তো অসীম বা অরুপ আলো। আমি তাকে কিভাবে ব্যবহার করবো সেটা তো আমার উপরই বর্তায়। তবে কবিতা লিখতে গেলে যে ভাবনার দরকার তা মনে হয় এখন একটু ছেদই পরেছে মানুষের ভেতর। কারণ মানুষ এখন অস্থির। এখন সবাই বাঘ হতে চায়, কোকিল না। মানুষ সব হরণ করতে চায় এবং যেটুকু পাবার তার চেয়েও বেশি সে চায়। আসলে কবিতার একটা নিজস্ব স্বভাব আছে। আর এ স্বভাব যতক্ষণ না একজন কবি নিজে রপ্ত করতে পারেন  তার পক্ষে কখনোই কবিতা লেখা সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে বাংলা গ্রামার জানলে একটা সুবধিা হয় সেটা হলো, সারাজীবন কবিতার মতো কবিতার জল ছাপ ফেলা যায় কিন্তু কবিতা কখনোই লেখা যায় না।
একগুচ্ছ কবিতা
ছুঁটে চলা
আমি পরে আছি একটা মদভর্তি গ্লাসের পাশে কালো কুকুরের মতো আর শুনতে পাচ্ছি নারীর ভেতর তার যতো ঈর্ষা—অহংকার তারা গান গাইতে গাইতে গর্ভের টার্নেলে ঢুকে যাচ্ছে—এক স্বর্ণদোয়েল।
যে পথ দিয়ে ফজরের আযান চলে যাচ্ছে সুর তোলে অথচ পুরুষপুরাণ থেকে ছুটে আসছে তীব্র তীব্র তীর—সজারু আর ময়ূরের সুড়সুড়ি।
 
ও আরবি হরফ— আমাকে শেখাও তোমার শরীর— তামাশা। জগতে আমি আর ছুটতে চাই না ওই ভীরু খরগোশদের মতো— ভিরু বিড়ালের মতো তোমার আঁচল থেকে ঝরে পরা তারাদের মতো।
আমি দাঁড়িয়ে আছি আর সবাই যখন ছুটছে বাড়ির দিকে—গাছের দিকে—জল কিংবা জননীর দিকে।আমি তখনো দাঁড়িয়ে আছি একটা অন্ধ বেড়ালের পাশে, শরীর ঘেসে—সাদা ফুলের মতো কথারা যখন ছেড়ে যাচ্ছে তাদের সন্তাপ।
আমি পরে আছি— আমি দাঁড়িয়ে আছি।এই মুখের মতো যতো মুখ শৃগালের—মানুষের।
অথচ ছুঁটে চলাই মহাবিশ্ব...
মেয়ে মানুষের দিকে
মেয়ে মানুষ কেঁপে উঠলেই ফুল ফুল বিহ্বলতা! আঙ্গুলের নখ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে পাখিদের গান আর মকশো করা পুতুল পুরুষ। এবার বাজি ধরবে শহর—টেক্সি আর মদের ঝার।
দেখো দোকানে বিজ্ঞান ঝুলে আছে—বয়সের পিল! তোমার কান্না—রান্না শেষ হলে আমাকে ডেকো মা, আমি আসছি বালিকাদের ঘর থেকে। ওরা নিতান্তই বেহায়া। কামড় দিলে ছাড়তে চায় না। এরা জোঁক—পরিশ্রমি, ভালোবেসে সবটাই দিয়ে দেয় কেবল আত্মা ছাড়া!
আমাকে ডেকো মা, আমি গাছের আড়ালেই আছি টুনটুনি—অস্থির ভালোলাগা নিয়ে। সন্ধ্যা হলেই আমি তোমার ছেলে আর বাকি সবার পুরুষ। লোকটা ভিষণ মেজাজি। করুণা তার হাতের তালুতে নিয়ে ছুঁড়ে দেয় মেয়ে মানুষের দিকে।
লজ্জা আর বিছানা হলো একটা দীর্ঘ শহর। আমি হেঁটে যচ্ছি তাদের কাছে, যারা এখনো বিজ্ঞান মানে না! ওরা জানে না এটাও একটা মেশিন। চলতে চলতে এটাও নষ্ট হয়— ভেঙ্গে যায়— বদলাতে হয় নতুন করে।
অথচ এরা আমাকে ডাকছে। কাক—কাঠবিড়ালি—সাপ—ফুল, আসলে এদের কারো কোনো গন্ধ নেই আর। সবটাই খেলনা আমার, আমিও যেমন! শুধু তুমি আমাকে ডেকো মা, আমি আসছি তোমার প্রথম শিশুটির মতো বাকহীন—বর্তুল বিস্ময় নিয়ে তোমার আঙ্গুলের নিচে।
 
হঠাৎ আঙ্গুলে ব্যথা পাই
শুভ সকাল। খোঁপায় তোমার মোরগঝুঁটি। গতরাত থেকে ফুলের মুখ লাল হয়ে আছে। সেও তো ভীষণ জ্বর। একদিন বাবাকে দেখছিলাম রাতে আকাশ থেকে কাকে যেন টেনে নামাচ্ছেন। আমাদের ঘর তখনো শূন্য— তখনো আমি কথা দিয়ে কথা রাখিনি অনেক ফুলের— মায়েদের।
যারা বিদেশে থাকেন। মানে আমার চোখের বাইরে। তারা আকাশেও উঠেন আজকাল। অথচ আজ একাই একটা পিয়ানো বেজে চলছে বাতাসে বাতাসে আর মুহূর্তেই যে আমাকে ধরে ফেলতে চাইছে সে তো বাবার দেয়া অনুতাপ আমার গলায়!
নিজের জন্য নয়— কারো কারো জন্য হঠাৎ আঙ্গুলে ব্যথা পাই ভীষণ। যাকে মা মনে করি সেই তো মা আর যাকে প্রেমিকা ভাবি সেও কি প্রেমিক? এমন প্রশ্ন নিয়ে যারা ছুঁটে বেড়ান পথে—ঘাটে—পাহাড়ে—নদীতে তারা এখনো কিছুই শিখেননি।
তারা মায়ের কাছে যাক—যাক তারা শিশুদের কাছে। সেই শুরু থেকে যেভাবে প্রথম আঙ্গুল ধরতে শিখেছিলেন তেমনি আজও শিখতে থাকুন সব শুরু থেকে।
তবে পালাবার আগে একবার ভাবুন, আপনিও একজন বাবা। যে অনুতাপ আপনি আজ আবার ঝুলিয়ে দিলেন আপনার ছেলের গলায়, সেখানে চুমুও দেয়া যায় যেমন আবার জবাইও করা যায়!
অর্ধমৃতসত্য
জানি আমার মাথাটা সন্ধ্যার দিকে হেলে পরেছে এখন। ভাঙ্গা ব্রিজ থেকে যেভাবে শিশুশয়তানরা লাফিয়ে পরেছিলো একদিন ফুল হাতে, সে ছিলো আগুন—প্রথম শরীরের!
অন্ধকারও একটা ছবি হতে পারে কিংবা তোমার কানের দুল হতে পারে ঘোরঘণ্টা যেন স্কুল ছুটির পর যে কোনো বালিকাই কোকিলের মতো নির্জন—সুরেলা মাথার ভেতর।
অথচ আমি পথ ভুলে গেছি।বাবা বলতেন, পাখি ও পাপ হঠাৎ করেই আসে—ভাসে হাতের কাছে। আর জলের কাছে আসে প্রেম! মানুষে মানুষে যা হয় তা হলো ভবিতব্য।
আমি অরণ্যে মুখ লুকাই—দেখি হাতের রেখা থেকে সোনালি সাপগুলো শরীর বেয়ে নামছে পায়ের কাছে কখনো বা উঠছে মাথায়!
আর তখন তুমি বিস্তৃর্ণ পথ বিছিয়ে রেখেছো পালক ও পালঙ্কে যেন পথিকেরা ক্লান্ত হয়ে তোমার কাছে এসে বসে। কিন্তু এটা পাথরের মূর্তি— যখন তোমার ঠোঁটের কাছে আনত অর্ধমৃতসত্য!
আমি আসলেই কেউ না!
নীল হাঁস
চোখ থেকে লাফিয়ে পরা প্রতিটি বিকেল প্রতিবেশী হাঁসগুলোর মতো শরীরের ছায়া নিয়ে ডুবে যায় নদী ও সমুদ্রে।যেন গোধূলি এক পাগলীর মুখ—হলুদ পাতা—গাছেদের আড়াল থেকে যৌনজল ছুঁড়ে মারে চাঁদে!
ক্ষতগুলো তার কালো গোলাপ—খোঁপায় ঝুলানো এক অন্ধ ময়ূরের নাচ যেন হাওয়ার বিলাপে থেকে খসে পরা তার রংগুলো এক একটি আত্মহত্যার মতো জলের ঢেউয়ে ভেসে গেলে বুকের নিচে জলও শূন্য হয়ে যায়!
আর শূন্যতা মানে এক ছিপনাও—জন্মান্তর—ফেরেস্তার সাথে প্রেম—তখ্ত তাউসের পাশে ঘুরঘুর করা দুটি লাল ইঁদুর মুখোমুখি হলে চিন্তার পরিধি থেকে কখনো বা হেসে উঠে নিটোল নিয়তি।
যেন পৃথিবীতে প্রতিটি প্রকৃত স্তনই মহৎ আর বিভ্রম ছড়ানো... 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close