শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » ইসলাম

রুশদি কাহিনী-১

রবি, ২০ মার্চ'২০১৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন


রুশদি কাহিনী-১  
ওয়াহিদুদ্দীন খান
তর্জমা : সালেহ ফুয়াদ

[মাওলানা ওয়াহিদুদ্দীন খান একজন ইসলামিক স্কলার ও শান্তি আন্দোলনের সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। এপর্যন্ত তিনি তার কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছ, ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ ও রাজীবগান্ধী পুরস্কার। শান্তির জন্য পেয়েছেন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ পুরস্কারসহ আরও বহু পুরস্কার।
ইসলাম তলোয়ারে নয়, উদারতায় এসেছে— যেন এর প্রমাণ দিতে অনবরত লিখে চলেছেন ওয়াহিদুদ্দীন খান। এখন তিনি অশিতিপর বৃদ্ধ, তবু অক্লান্ত পরিশ্রমী। তিনি তার কাজের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিসকোর্স হাজির করেছেন। বাংলা ভাষা-ভাষীদের কাছে তিনি অতটা পরিচিত নন। তবে তার চিন্তাধারা ইসলামী স্কলারদের ছাড়াও এখানকার প্রগতিশীল লোকজনের সুকুমার ভাবনার খোরাক জোগাবে বলে বিশ্বাস করা যায়।
তার তুমুল আলোচিত একটি বই ‘শাতমে রসুল কা মাসআলা’। এটির তর্জমা ধারাবাহিকভাবে ছাপা হচ্ছে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমে। পড়ুন সম্মানিত পাঠক, আর এ বিষয়ে মতামত জানান দ্য রিপোর্টের পাতায়। বি.স]
১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সাল। সবগুলো খবরের কাগজ এক ভয়ানক খবর নিয়ে এলো। শিয়ানেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি মুসলমানদের The Satanic Verses-এর লেখক সালমান রুশদিকে (৪২) কতল করতে বলেছেন। একই সঙ্গে ইরান সরকার কতলকারীর জন্যে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯) তথ্যানুযায়ী, হত্যাকারী ইরানের নাগরিক হলে পাবে দুই মিলিয়ন ডলার। ভিন্ন দেশের হলে এক মিলিয়ন ডলার। ইরানের ভাষায় ইসলামও ইরানি-তুরানি দু’রকম হয়ে গেল।
১৯ ফেব্রুয়ারির কাগজগুলো খবর নিয়ে এলো, সালমান রুশদি লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলন করে মাফ চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, Living in a world of many faiths, the experience had served to remind us that we must all be conscious of the sensibilities of others.
পরের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯। খবরের কাগজগুলো জানাল, ইরানের ধর্মীয়-নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি ঘোষণা করেছেন, সালমান রুশদিকে ক্ষমা চাওয়ার পরও ছেড়ে দেওয়া যায় না। টাইমস অব ইন্ডিয়ার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভাষায় তিনি বলেছেন, Even if Salman Rushdie repents and becomes the most pious man it is incumbent on every Muslim to employ everything he’s got, his life and wealth, to send him to hell.
কওমি আওয়াজ (২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯)-এর খবরে বলা হয়, সুন্নি আলেমরাও এ ইরানি ‘জেহাদে’ পুরোপুরি অংশ নিয়েছেন। ২০ ফেব্রুয়ারির কওমি আওয়াজের খবর মোতাবেক দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা লখনৌর ব্যবস্থাপক মাওলানা আবুল হাসান আলি নাদভি এক বয়ানে খোমেনির ঘোষণাকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রুশদি জঘন্যভাবে ইসলামের অবমাননা করেছেন। পুরো বিশ্বের মুসলিমদের মনে ক্রোধের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। ইমাম খোমেনির ঘোষণায় মুসলমানদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। মাওলানা নাদভি বলেন, ইসলামে নবীর অপমানকারীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মুফতি ও আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত।
এরপর এ নিয়ে দীর্ঘ টিভি-টকশো ও বক্তৃতা-কলাম চলতে থাকে। মুসলিম লেখক-বক্তা জোশালো শব্দ ব্যবহার করতে থাকেন। তারা সালমান রুশদির কতল ছাড়া অন্য কিছুই মানতে রাজি না। এ বাক-জিহাদে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানরা বেশি অংশ নেন। লন্ডনের রাস্তায় যে শোডাউন হয়েছে তার পেছনেও এ দেশগুলোর মুসলিমরাই ছিলেন। বাকি মুসলিমবিশ্ব তথাকথিত এ জেহাদে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেয়নি। খোদ ইরানিরাও সমবেতভাবে এ মহাযজ্ঞে অংশ নেয়নি!
কওমি আওয়াজের (২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯) খবরে বলা হয়, আলেমদের নিয়ে মক্কায় বৈঠকের পর রাবেতা আলমে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর আবদুল্লাহ উমর নাসিফ এক বিবৃতিতে বলেন, সালমান রুশদি একজন মুরতাদ। ইসলামে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তিনি সালমান রুশদির অনুপস্থিতিতে কোনো মুসলিম দেশে তার ওপর মামলা করার অনুরোধ করেন। ডক্টর নাসিফ বলেন, রুশদি তার বইটিতে যা লিখেছেন একে বাক-স্বাধীনতা বলা যায় না। এটা সরাসরি হামলা। সালমান রুশদি মুরতাদ। শরীয়ত মতে, মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। যা হোক, এ বিবৃতিটি ছাড়া রাবেতা এ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আর কোনো অ্যাক্টিভিটি দেখায়নি।
১৯৮৯ সালের ৭ মার্চ ইরান তার সকল কূটনৈতিকদের বৃটেন থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে বৃটেনের সঙ্গে যাবতীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া, ৮ মার্চ ১৯৮৯
পুরস্কারের জওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯। টাইমস অব ইন্ডিয়া ১ম পৃষ্টায় একটি খবর ছাপে। খবরটিতে বলা হয়, লন্ডনের একটি বড় কাগজের মালিক রবার্ট ম্যাক্সওয়েল ঘোষণা দিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে যে একজন সভ্য মানুষ বানাবে তাকে পুরস্কার স্বরূপ দশ মিলিয়ন ডলার দেবেন। তার ঘোষণাটি লন্ডনের সাপ্তাহিকী পিউপলে [The people] ছাপা হয়। ঘোষণা মতে, পুরস্কারটি তাকেই দেওয়া হবে- যিনি ইরানি নেতাকে তার ভুলটি ধরিয়ে দিয়ে তাকে এ কথায় রাজি করাবেন যে, খোমেনি বাইবেলের দশ আদেশের ছয় ও নয় নম্বরটি জনসম্মুখে পড়ে শোনাবেন। আদেশ দু’টি হলো— “তোমরা খুনোখুনি করবে না”, “তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিবে না”।
British newspaper magnate, Mr. Robert Maxwell, pledged 16 million ($ 10.6 million) to anyone who can “civilize” the Iranian ruler, Ayatollah Ruhollah Khomeini, one of his newspapers announced today. The people, a London weekly tabloid, said the money would be paid to anyone who can persuade the Iranian leader to repent “his wicked ways” by persuading him to publicly recite the sixth and ninth of the Ten Commandments in the Christian Bible: “Thou shalt not kill” and “Thou shalt not bear false witness.”
রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের এ বক্তব্য আসলে মুসলমানদের নিয়ে ঠাট্টা ছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে সহিংস ও খুনোখুনির ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা। বিপরীতে খৃস্টধর্মকে দয়া এবং উদারতার ধর্ম বলে দেখানো।
ইসলামের বিকৃত ছবি
টাইম ম্যাগাজিন (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯) আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে নিয়ে একটি ‘স্টোরি’ করে। ১ম পৃষ্টায় লেখে, খোমেনিকে The Satanic Verses ইসলামবিরোধী বলে লেখক সালমান রুশদিকে কতলের ডাক দিয়েছেন— The Ayatullah condemns an author: Saying the book The Satanic Verses “is against Islam,” Khomeini calls for the death of Salman Rushdie.
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দেশ আরেক দেশের নাগরিকের সাজা ঘোষণা করছে বলে পশ্চিমা নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠেছে, স্বাধীন সমাজ কিভাবে নিজে এবং তার নাগরিককে এমন অসংযত ও ভীতিকর অবস্থা থেকে বাঁচাবে।
It also raised questions about how free societies can best protect themselves and their citizens against so furious and mercurial a form of intimidation (p-5).
টাইম আরবদের যে প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছে এতে লোকসান মূলত ইসলামেরই হয়েছে। অন্য ভাষায় বললে, যারা নিজেদের দেশে স্বাধীনভাবে লোকদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, তারা আশংকা করছে, ইসলাম তাদের সমাজে প্রবেশ জীবনের জন্য ভীষণ হুমকির। কারণ এটা ভদ্র সমাজে অসভ্য মানুষের প্রবেশের নামান্তর।
কী অদ্ভূত কথা! যে ইসলাম ছিল নিরাপত্তার ধর্ম, যার নবীকে বিশ্বের রহমত বলা হতো, তার চেহারাই এমন পাল্টে দিয়েছে যে, তার সংশ্রবেই মানুষ জীবনের আশংকা মনে করে।
রিয়াদ কনফারেন্সের সিদ্ধান্ত
১৪-১৬ মার্চ ১৯৮৯। রিয়াদে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (সংক্ষেপে ওআইসি, বর্তমান নাম : অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ)-এর সম্মেলন বসে। ৪৬টি মুসলিম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। সম্মেলনে আফগানিস্তান ইস্যুর পর সবচে’ স্পর্শকাতর ছিল সালমান রুশদির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া। সউদি বাদশাহ ফাহাদের উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। এ ইস্যুর নানা দিক নিয়ে কয়েক দিন আলোচনার পর ১৬ মার্চ ১৯৮৯-তে মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একমত হয়ে সিদ্ধান্ত দেন।
৪৬টি দেশের সংগঠন ওআইসির (বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৫৭) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে একমাত্র ইরানের দ্বিমতের সঙ্গে স্যাটানিক ভার্সেসের লেখক সালমান রুশদির বিরুদ্ধে দেওয়া খোমেনির ফতোয়াকে কড়াভাবে রদ করে দেওয়া হয়। প্রতিনিধিরা ইরানি ফতোয়া রদ করাকে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মতো দেন। কনফারেন্স সালমান রুশদির উপন্যাসকে ইসলামের জন্য অবমাননাকর বলে বিধর্মী নেতাদের বদমতলবে পা না দিতে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানায়। সউদি বাদশাহ ফাহাদ উদ্বোধনী ভাষণে মুসলমানদের বলেন, ক্ষমা ও উদারতার সঙ্গে কাজ করা চাই। অপরাধীদের তওবার সুযোগ দেওয়া চাই। সম্মেলনে বক্তারা এসব ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাকিদ দেন। কওমি আওয়াজ ১৭ মার্চ ১৯৮৯
এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল রুশদির কতলের ফয়সালায় তথাকথিত ইসলামী রাষ্ট্রটি একা। বাকি সবকটি মুসলিম রাষ্ট্র মনে করে, রুশদি যদি এর চেয়েও ঘৃণ্য কিছু লেখে এরপরও ফতোয়া জারি করে তামাম মুসলমানদের ফুঁসলিয়ে তাকে যেখানে সেখানে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ভুল। সালমান রুশদির জওয়াব আমাদের শান্তির মাধ্যমে দেওয়া চাই। বোমা বা গুলি দিয়ে নয়।
একটি বিভ্রান্তি
সালমান রুশদির কতলের পক্ষে প্রকাশিত প্রবন্ধ-নিবন্ধে যে ক’টি শব্দ ব্যাপকভাবে খরচ করা হয় তাহল- রুশদি বিশ্বের এক বিলিয়ন মুসলমানের অনূভূতিতে আঘাত দিয়েছে। শব্দগুলো একেবারেই অবাস্তব। এর প্রমাণ হলো এ বিষয়ে যত প্রকাশনা আছে এর নিরানব্বই ভাগই ভারতীয় এবং পাকিস্তানি মুসলিম লেখকদের। বাস্তবতা হচ্ছে, এরা ভারত এবং পাকিস্তানের উর্দুভাষী অতি আবেগি মুসলিম। এমনকি বিদেশে আন্দোলনের পেছনেও প্রবাসী ভারতীয় এবং পাকিস্তানিরাই ছিলেন। এসব দেশে আরব বা অন্যান্য দেশের প্রবাসী মুসলিমরা এতটাই কম অংশ নিয়েছেন যে একে ধরাই যায় না।
টাইমস অব ইন্ডিয়া (৩ এপ্রিল ১৯৮৯) শেষ পৃষ্ঠার নিচের দিকে বৃটেনে রুশদিবিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে বলে জানায়। শিরোনাম Anti-Verses stir intensified in UK। খবরে বলা হয়, বৃটেনের মুসলিমরা স্যাটানিক ভার্সেসবিরোধী আন্দোলন তীব্রতর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে ব্রিটিশ আইন অমান্য করে হলেও আন্দোলন জিইয়ে রাখবে। খবরে বলা হয়, ডক্টর কলিম সিদ্দিকি মুসলিম ইনস্টিটিউটের এক কনফারেন্সে এ ঘোষণা দিয়েছেন। কে এই ডক্টর কলিম সিদ্দিকি। ইনি একজন উর্দুভাষী ভারতীয় মুসলিম। লন্ডনের প্রবাসী। (মৃত ১৮ এপ্রিল ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ)।
২৮ মে ১৯৮৯। লন্ডনে রুশদির বইবিরোধী শোডাউন হয়। বলা হয়, প্রায় বিশ হাজার মুসলিম এতে অংশ নিয়েছিল। এরা উগ্রতা ও ভাঙচুরও করে। এ শোডাউনও বিলাতে বসবাসকারী ভারতীয় উপমহাদেশের লোকদেরই ছিল। এদের নেতা ছিলেন মইনুদ্দিন চৌধুরী। যিনি মূলত বাংলাদেশি। কওমি আওয়াজ, ২৯ মে ১৯৮৯
বোঝা গেল, বিশ্ব মুসলিম নামে কারা বিদেশে এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আসলে কিছু ভারতীয় ও পাকিস্তানি মুসলমান। বিশ্বের সব মুসলমান নয়।
আজ পর্যন্ত কোনো সংবাদেই এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন— এমন কোনো আরব, তুর্কি, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার কোনো নাগরিকের নাম আসেনি। এমনকি খোদ ভারত-পাকিস্তানেরও স্রেফ উর্দুভাষী কিছু মুসলমানই অংশ নিয়েছেন। দেশ দুটোর অনুর্দুভাষীরা (যেমন— দক্ষিণভারতের মুসলমান) এতে উল্লেখ করার মতো অংশ নেননি। এতে প্রমাণ হয়, এ আন্দোলন সামগ্রিক মুসলমানদের আন্দোলন নয়। বরং মুসলিম-বিশ্বের অল্প সংখ্যক মুসলমানদের কাজ। যারা নিজেদের অবাস্তবভাবে ইসলামের একক ঠিকাদার ভেবে নিয়েছে।  




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close