শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » ইসলাম

গাছ লাগান সাওয়াব কামান

মঙ্গল, ২২ মার্চ'২০১৬, ২:১৫ অপরাহ্ন


গাছ লাগান সাওয়াব কামান  
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে কারিমে আরও উল্লেখ করেছেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক, আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি। এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাকসব্জি, জয়তুন, খেজুর, ঘন উদ্যান, ফল এবং ঘাস- তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।’ (সূরা আবাসা : ২৪-৩২)।

জানালা খুললেই চোখে পড়ে সবুজের নরম বিছানা। তাজা ঘাসের গালিছা। দৃশ্যটা আসলেই নয়নাভিরাম। চোখজোড়ানো সবুজ বিছানার চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি বৃক্ষ- ছোট, মাঝারি ও আকাশচুম্বী গাছপালা। মাঝে মাঝেই ঘাসগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। চাহনিতে বিনুনি কেটে দিই ঘাসের সবুজ চুলে। গাছপালা আর বাগবাগিচা থেকে বয়ে আসে ঝিরঝিরে বাতাস। যা থেকে আমরা পাই বিশুদ্ধতার ছোঁয়া। পরিস্কার হাওয়া-বাতাসের ছোঁয়ায় অবসাদ কেটে যায়। একঘেয়েমি দূর হয়। চোখ ঠান্ডা হয়। প্রিয় ঘাসগুলোর কোমল স্পর্শে দিনের ক্লান্তি দূর হয়।
একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, জমিন এত সবুজ, এত এত ঘন উদ্যানে সুশোভিত অামাদের এ পৃথিবী- যা মূলত ছিল পতিত, ঠাঠা মাটি; অনুর্বর ভূমি। এমনকি জমিনে যে ফসল ফলে তার বীজটাও থাকে নির্জীব-শুষ্ক। কৃষক জমিতে শুষ্ক বীজ বপন করে। অথচ কতই না আশ্চর্য উপায়ে এই শুষ্ক বীজ অঙ্কুরিত হয়ে সুবজ চারায় পরিণত হয়। কোমল চারাগাছে নির্দিষ্ট সময়ে আসে ছড়ায় ছড়ায় শস্যদানা, যা মানব জাতিসহ সব প্রাণীর জন্য খাদ্যখাবরের জোগান দেয়। এর থেকেই উৎপাদিত হয় সকল জীবের খাদ্যোপকরণ। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, এই শুষ্ক জমিনকে ফসল ফলার উপযোগী করল কে? কে এই নির্জীব বীজ থেকে সুবজ চারা উৎপন্ন করল? কে এই মরা-নিষ্ফলা জমিনকে বৃষ্টি নামিয়ে ফলনক্ষমতা দান করল? এসবের পেছনে কি কোনো চালক নেই? এসব কিছুই কি নিজেরা সৃষ্টি হয়ে গেছে? না না- বরং এসব কিছুকে অবিমিশ্র ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি মহামহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই সৃষ্টি করেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘এবং আমি মেঘমালা থেকে প্রবহমান পানি অবতীর্ণ করেছি। খাদ্যশস্য, উদ্ভিদ ও ঘন উদ্যানরাজি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে।’ (সূরা নাবা : ১৪-১৬)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে কারিমে আরও উল্লেখ করেছেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক, আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি। এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাকসব্জি, জয়তুন, খেজুর, ঘন উদ্যান, ফল এবং ঘাস- তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।’ (সূরা আবাসা : ২৪-৩২)।
এসব প্রাকৃতিক উপাদানগুলো- বিশেষত বৃক্ষ, তরু, লতা-গুল্ম ও ঘাস-- এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীবাসীর জন্য অকিঞ্চিৎ দান। অনেক বড় অনুগ্রহ। অতুলনীয় অনুকম্পা। সবচে গুরুত্বের কথা হলো, উদ্যান ও বন-বনানী মানুষের শ্বাসনিশ্বাসের জোগান দেয়। গাছগাছালি মানুষের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। এগুলোর মাধ্যমেই আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং উদ্ভিদই মানুষের সবচেয়ে উপকারী বন্ধু। কারণ, গাছপালা ও বন-লতা আছে বিধায়ই অক্সিজেনের সরবরাহ বাকি আছে। আর অক্সিজেন আছে বলেই মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে। গাছের মাধ্যমে পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা হয়। প্রত্যেক ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট পরিমাণ উদ্ভিদ না থাকলে সে দেশের পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ইসলামেও তাই গাছগাছালির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বোখারি ও মুসলিম শরিফে এবিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যাধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। বর্ণিত আছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, ‘যদি কারো হাতে রোপণ করার কোনো চারা থাকে, এমতাবস্থায় কেয়ামত এসেও যায় এবং রোপণ করার সময় পাওয়া যায় তাহলে তা রোপণ করা ব্যতীত যেন সে না দাঁড়ায়।’ (উমদাতুল কারি : ১২/১৫৪)।
অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া বা ধারাবাহিক পুণ্যের আমল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হজরত মুসয়া'ব বিন আনাস (রা.) বলেন, রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়-জুলুম না করে কিছু নির্মাণ করল অথবা কোনো চারা রোপণ করল, যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর সৃষ্টি তা থেকে উপকৃত হবে ততদিন পর্যন্ত রোপণকারী সওয়াব পেতে থাকবে।’ (উমদাতুল কারি : ১২/১৫৫)।
তবে দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ খুবই অপ্রতুল! বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক! সরকারি হিসাব অনুপাতে দেশে মোট ভূমির ১৭.৫০ শতাংশ (প্রায়) বনভূমি রয়েছে। আর ‘এফএও’-এর মতে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ ১০ শতাংশ (প্রায়)। অথচ বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমির পরিমাণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করা আশু প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা। সুতরাং মাতৃভূমিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে বৃক্ষকর্তন ও বন উজাড়ের মানসিকতাকে পরিহারকরত বেশি করে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সুতরাং আমাদেরকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একটি গাছ কাটার আগে কম করে হলেও দশটি গাছ লাগানো চাই। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন ঠিক থাকবে, তেমনি সদকায়ে জারিয়ার সওয়াবও পেতে থাকব আমরা (ইনশা আল্লাহ)। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close