শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

পাঁচটি কবিতা

বুধ, ২৩ মার্চ'২০১৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন


পাঁচটি কবিতা   
সহজিয়া
নেভাতে পারিনা বলে জ্বালাতে শিখিনি
জ্বালাতে শিখিনি বলে চাই না আগুন;
তবুও জ্বলতে হয়, জ্বালাতেও হয়
তবুও তো দেখা দেয় পলাশ ফাগুন।
ফাগুন চিনিনা বলে তোমাকে বুঝিনা
রক্তের তাণ্ডব স্রোতে ভেসে যায় ঘর
তবুও কে ডাক দেয় প্রচণ্ড প্রদোষে
লণ্ডভণ্ড করে দেয় মনের আগড়।
মনেতে বসতি কার কে গড়ে আবাস
দ্রোণে মত্য বাণে মত্য, মত্য পরবাস;
যমুনার বাঁকে মত্য মুড়ারির ধ্বনি
মধরাতে বাঁকা চাঁদ সব করে গ্রাস।
তোমাতে তুমিই থাকো আমাতেই আমি
তবুও তোমার মাঝে আমি অনুগামী।
কালের পশরা
যে ঘাটে নৌকা ভিড়ে যাইনি সে ঘাটে
কালের পশরা নিয়ে বসে আছি হাটে:
দর নেই দাম নেই নেই বেচা কেনা
তাড়া দেয় মহাজন শোধ দাও দেনা।
বুঝিনা পাওনা কিসে কিসে লাভ ক্ষতি
হারায়ে পাড়ের কড়ি মিথ্যে তেজারতি;
গেঁথে আছি বানভাসি স্রোতের ফলায়
গহ্বরে কাঁদে রুই বেতস জলায়।

তিনধারে বাঁধা তার পতিত ভুবন
বেভুলের ফাঁদে পড়ে হারালো শোভন;
মানুষে মানুষ খুঁজি কোথায় মানুষ
ছুঁতে গেলে ফণা তুলে বিবর্ণ ফানুস।
সাগর সিঞ্চনে কাটে প্রহর খানিক
যদি মিলে দৈবতার অধরা মানিক।
শৈশবের ক্ষত
জলের শরীরে দীপ্ত ঘামের প্রলেপ
ত্রিবেণী সঙ্গমে ভাসে ব্যঞ্জণের ধুলা
বাজখাই বায়বীয় অশ্বের কেশর
শৈবালে আটকে আছে নিধি পরচুলা ।

উচ্চকিত নয় তবু ম্রিয়মাণ স্বরে
দূর প্রস্থে দীর্ঘায়িত মিনের ঝটিকা

কেউ কী মুছতে পারে শৈশবের ক্ষত
সামিনার বাহুমূলে অরক্ষিত টিকা ।

নির্ঘুম যাপিত নিশি কালের কুটিরে
ভীষণ শঙ্কিত কেন জয়ার তপতি?
ব্যাকুল বর্ষণে সিক্ত আর্ত শব্দাবলি
নিঃসঙ্গ তরঙ্গে ভাসে তরী মায়াবতী।

ধ্বনিত ধমকি সুর বজ্রের হঙ্কার
প্রভাতে শিশির সিক্ত কুটিল ওঙ্কার।
খরা ও জলের সন্ধি
বহুদিন বৃষ্টি নেই তোমার উঠোনে
প্রাক্কলিত গাত্রজুড়ে খরার আঁচড়।|
ধুলার চাদরে ঢাকা রোদের বসতি
উৎকীর্ণ লাভার মতো নিভাঁজ প্রহর।

চর্চিত ভূমির ফাঁকে ক্ষয়িষ্ণু স্মারক
অঙ্কুরিত বাহুলতা, দীর্ণ তৃণমূল;
প্রবল তৃষায় কাঁপে সমূহ প্রকৃতি
প্রান্তিকের ক্ষতে দ্বগ্ধ দ্রোহের বকুল।

অথচ আমার ঘরে রাশি রাশি মেঘ
নিশঙ্ক ঘুঘুর মতো পালক ছড়ায়
দোল দেয় কুসুমিত সমিল উত্থানে
ঊষর ভুমিতে নীল ঝরনাধারায়।

ব্যবচ্ছেদ শুধু এই অলীক দ্বৈরথে
দিয়েছি বিপুল পাড়ি বিনম্র্র স্বপথে।
নি-সুর তাণ্ডব
দূরাভাষে পরাহত বন্ধনের দায়
অঘ্রাণে আগুনমুখী হৈমন্তী প্রভায়
দলিত মোহন বেদী ভ্রান্ত প্রান্তজন
অপলকে তিরোহিত অকাল বোধন।
কালাগুনে ভস্ম হলো শস্যের শরীর
অনিবার্য সংঘাতে জীবন অধীর
দুয়ারে প্রাবর দেয় মৃত্যু পরোয়ানা
ধূলি-মেঘে আচ্ছাদিত সুরম্য বিছানা।

অদৃষ্টের দায় দেনা আজন্মের ঋণ
শোধবে কী ওয়ারিশ স্বপ্ন অর্বাচীন
তুমুল বিভ্রাটে ছন্দ হৃত অন্ত্যমিল
নি-সুর তাণ্ডবে যজ্ঞ হয়েছে পঙ্কিল।

হতোদ্যম কালোবেনী ধূসর আভায়
মানুষের ছদ্মবেশে শকুনের ঠাঁয়। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close