শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

ভারতের বোধোদয়

শুক্র, ২৫ মার্চ'২০১৬, ২:২২ অপরাহ্ন


ভারতের বোধোদয়   
ফেনসিডিল নিষিদ্ধ করেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শুক্রবারের এক সিদ্ধান্তে ৩৫০টি ওষুধের সঙ্গে ফেনসিডিলও নিষিদ্ধ করা হয়। এখন থেকে এই ওষুধগুলো উৎপাদন ও বাজারজাত করা যাবে না। সোমবার নাগাদ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত গেজেট হবে।
কাশির সিরাপ হিসেবে তৈরি ফেনসিডিলে কোডেইন নামের যে উপাদান থাকে তা মস্তিষ্কসহ সমস্ত মানবদেহেরই ক্ষতি করে বলে প্রমাণিত হওয়ায় তা নিষিদ্ধের তালিকায় পড়েছে। এতকাল ভারতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যে কেউ ওষুধের দোকান থেকে ফেনসিডিল কিনতে পারত।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশে ফেনসিডিল উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে কাশির সিরাপ হিসেবে তা ব্যবহার করা হতো। ফেনসিডিল নিষিদ্ধ করার পর এ দেশে এটি নেশাদ্রব্য হিসেবে বেছে নেয় নেশাখোররা। তাদের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে ফেনসিডিল আসতে থাকে বাংলাদেশে। একপর্যায়ে তা বাংলাদেশের যুব সমাজকে ব্যাপকভাবে আসক্ত করায় চোরাচালান অর্থনীতির অন্যতম উৎসে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের বাজার লক্ষ্য করে ভারতের কিছু ওষুধ কোম্পানি ফেনসিডিল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ও-দেশে ও এ-দেশে ফেনসিডিল কারবারকে কেন্দ্র করে বড় পুঁজির চোরাকারবারি ব্যবসা গড়ে ওঠে। এ দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিশাল ফেনসিডিল সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। ধ্বংস হতে থাকে দেশের যুব সমাজ। আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় ফেনসিডিল। সাম্প্রতিক সময়ে দু’দেশের সীমান্ত বৈঠক ও পররাষ্ট্র পর্যায়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে থাকে। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের অভিযোগকে কখনো আমলে নিতে চায়নি। বলা যায়, গত সাড়ে তিন দশক ধরে ভারতীয় ফেনসিডিলের কাছে বাংলাদেশ হয়ে পড়েছিল চরম অসহায়।
তাই অনেক দেরিতে হলেও ভারত সরকারের ফেনসিডিল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত যতটা না ভারতের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। সে কারণে এ দেশের মানুষ ভারত সরকারের নতুন ওষুধনীতিকে স্বাগত জানায়। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত সফলভাবে কার্যকর হলে সে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য তা যেমন মঙ্গলকর হবে, তেমনি তা বাংলাদেশের যুব সমাজের জন্য হবে আশীর্বাদস্বরূপ। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close