শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » ইসলাম

শিশুর নৈতিকতা শিক্ষার উন্নয়নে মক্তবের ভূমিকা

শনি, ২৬ মার্চ'২০১৬, ১:০০ অপরাহ্ন


শিশুর নৈতিকতা শিক্ষার উন্নয়নে মক্তবের ভূমিকা  
সুর্যদয় হওয়া মাত্র ফজরের নামাজ পরে শিশু কিশোররা কাতার করে শৃঙ্খলার সাথে মক্তবে পড়তে আসতো। মক্তব আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। জাতি গঠনের হাতিয়ার। ধর্মিও ও অন্যান্য সকল প্রাথমিক শিক্ষা পাশাপাশি কোমলমতি শিশু কিশোরদের সবচেয়ে বেশী যে শিক্ষাটা প্রয়োজন তা হচ্ছে নৈতিকতা শিক্ষা। মক্তব আমাদের নৈতিকতা শিক্ষার সোপান ।

অন্ন, বস্র ও বাসস্থান নিশ্চিত হবার পর মানুষের প্রথম চাহিদা শিক্ষা।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব আলোকিত করতে কোরআন নাযিলের সূচনা করেছেন সুরা আলাকের পাচটি আয়াতের মাধ্যমে। “পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু,যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না"।
মানুষের দু'ধরণের ক্ষুধার সৃষ্টি হয়। একটি হলো দৈহিক ক্ষুধা, অন্যটি মানসিক ক্ষুধা। দৈহিক ক্ষুধার চাহিদ সাময়িক এবং সহজলভ্য। মানসিক ক্ষুধার চাহিদা এর সম্পূর্ণ উল্টো। এটা পূরণ করাও খুব কঠিন যেটা শিক্ষার মাধ্যমেই নিবারণ হয়।একটি জাতি ঠিক ততোটাই উন্নত হবে তাঁদের শিক্ষার মাত্রা ও মান যত উন্নত আধুনিক ও ধর্মিও মূল্যবোধে পরিপূর্ণ হবে।যে শিক্ষা মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তা থেকে দূরে ঠেলে দেয় তা কখনই ব্যাক্তি, সমাজ রাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনে না। এ কথা স্বীকৃত যে, জাতি গঠনের ভিত্তি হলো শিক্ষা। একটি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ভিত্তি পায় তার সন্তানদের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায়। সুতরাং, প্রাথমিক শিক্ষার গুন ও পরিমানগত মান দ্বারা নির্ধারিত হয় পরবর্তী স্তরের শিক্ষার অর্জণসমুহ।একটি শিশুর বয়সের সাথে সাথে তার বোধের বিকাশ ঘটতে শুরু করে।প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিশুর ভিত্তি গড়ে দেয় যে ভিত্তির উপর শিশুর বিশ্বাস , নীতি-নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা,নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক সম্মানবোধ তথা যাবতীয় মানবীয় গুণাবলী গড়ে উঠে। এর সবগুলো মিলেই গড়ে উঠে প্রাধমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিশুর মৌলিক অধিকার।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ব্যাপকতা, অসম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যাবস্থাপনা, অবকাঠামোর ঘাটতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, যুগ্য শিক্ষকের অভাব, অনুপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক অপ্রতুলতা সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে সবচে বড় বাধা। এই সবগুলো সমস্যার উপযুক্ত ও কার্যকরি সমাধান হতে পারে আমাদের গ্রাম, পারা-মহল্লা , শহর- নগরে মসজিদ মাদ্রাসায় পরিচালিত মক্তব। গত শতাব্দীতেও গড়পড়তা প্রতি মহল্লায় সক্রিয় মক্তব ছিল। সুর্যদয় হওয়া মাত্র ফজরের নামাজ পরে শিশু কিশোররা কাতার করে শৃঙ্খলার সাথে মক্তবে পড়তে আসতো। মক্তব আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। জাতি গঠনের হাতিয়ার। ধর্মিও ও অন্যান্য সকল প্রাথমিক শিক্ষা পাশাপাশি কোমলমতি শিশু কিশোরদের সবচেয়ে বেশী যে শিক্ষাটা প্রয়োজন তা হচ্ছে নৈতিকতা শিক্ষা। মক্তব আমাদের নৈতিকতা শিক্ষার সোপান ।
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত চার লক্ষের অধিক মসজিদের ইমাম সাহেব, মুয়াজ্জিন ও খাদেম মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে মক্তবের মাধ্যমে শিশু কিশোরদের প্রাথমিক মৌলিক জ্ঞান বিতরনের পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষার স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে আসছেন। বর্তমানে শিক্ষা কারিকুলামের জটিলতা শিশু কিশোরদের মক্তব থেকে দূরে নিয়ে গেছে। পাঠের অনুপযোগী বিষয় নির্বাচনের ফলে শিশু মনে অস্থিরতা ও অনৈকিকতার বীজ বপন হচ্ছে।যা সময়ে মহীরুহ হয়ে ব্যাক্তির পাশাপাশি সমাজকে কূলশীত করেছে।বর্তমানে তরুণ সমাজে নীতি নৈতিকতার বালাই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সততা, সম্মান বোধ, প্রীতি-স্নেহ ভালবাসা সমাজ থেকে উধাও হয়ে গেছে । তার জায়গা নিয়েছে অসততা, অসম্মান, হিংস্রতা বর্বরতা ও অহংকার । সমাজে শিশু কিশোরদের হানাহানি মারামারি কাটাকাটির ব্যপকতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিশোর আপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনক আকার পরিগ্রহ করেছে যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। সমাজ গবেষকরা হিমশিম খাচ্ছে এই সমস্যা সমাধানের জন্য। এর একমাত্র কারন ভুল শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার হাতেখড়ি করা। নির্মিয়মান ধ্বংসাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মক্তবকে আরো সক্রিয় করে সকল শিশু কিশোরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরী । সরকারী আধাসরকারী ব্যাবস্থাপনা, মক্তবের অবকাঠামোগত ও প্রশিক্ষকদের নামমাত্র হাদিয়া সুবিধা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পাশাপাশি জাতিয় শিক্ষা কারিকুলাম পুনঃ বিন্যস্ত করার মাধ্যমে জাতি গঠনের সবচে শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে আমাদের মক্তব ইনশাআল্লাহ। সুখী, সম্বৃদ্ধ ও সফল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ শুরু হোক মক্তব থেকে ।





এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close