শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

বাঁশখালীতে প্রান্তিক মানুষের চিরন্তন লড়াই

শুক্র, ০৮ এপ্রিল'২০১৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন


বাঁশখালীতে প্রান্তিক মানুষের চিরন্তন লড়াই  
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে চার গ্রামবাসী মারা গেছেন, জখম হয়েছেন অর্ধশত। এই ঘটনার দায়ে পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করেছে ছয় হাজার ২৬৩ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। মামলায় নামোল্লেখ করা হয়েছে অল্প কিছু মানুষের, বাকিরা অজ্ঞাত। তদন্ত করে পুলিশ বাকি আসামিদের শনাক্ত করবে। আসামি বানাবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে সোমবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশ ও জনতার মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। যারা মারা গেছে, জখম হয়েছে বা আসামি হয়েছে তারাকয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তাদের জমি ছাড়তে চায় না। প্রতিবাদকারী এই সব মানুষের দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তাদের ফসলি জমি ও ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার বিরুদ্ধেই গ্রামবাসী একজোট হয়ে প্রতিবাদ করছিল। এই সময় পুলিশ ও এস আলম গ্রুপের সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছিল।
এই ঘটনার পর এলাকায় শোক এবং ক্ষোভ পরিবেশকে থমথমে করে রেখেছে। ভিতরে ভিতরে ফুঁসছে মানুষ, কিন্তু খুন-জখম এবং আসামি হওয়া গ্রামবাসী নিশ্চয় দ্রুতই আবার সংঘবদ্ধ হতে পারবে বলে মনে হচ্ছে। তা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয় এখন আরও সতর্ক। তা ছাড়া তাদের ঘাড়ে মামলার খড়গ তো থাকলই।
সুন্দরবন ধ্বংস হবে বলে রামপালকয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাদের মতো কোনো শক্তি বা কোনো রাজনৈতিক শক্তি বাঁশখালীর গ্রামবাসীর পক্ষে আছে কিনা এখনো দৃশ্যমান নয়। তাই আপাতত দৃষ্টিতে এই আন্দোলনকে শ্রেফ গ্রামবাসীর অস্তিত্ব রক্ষার স্থানীয় আন্দোলনই বলা যায়। বাঁশখালীর এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিপক্ষ একটি বৃহৎ পুঁজির ধারক, যার পিছনে রয়েছে আধুনিক রাষ্ট্রীয় শক্তি। তাই বাশঁখালীর গ্রামবাসীর আন্দোলনের পরিণতি অনেকটাই নির্ধারিত। বলা যায়, বাঁশখালীরকয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এক দিন সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে, যারা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য জীবন দিল তাদের কথাও মানুষ ভুলে যাবে। কিন্তু ইতিহাসের পাঠ, মানুষের অস্তিত্বের লড়াই কখনও থেমে থাকে না, এ এক চিরন্তন সত্য, এ এক চিরন্তন লড়াই। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close