শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

কবিতার পথে পড়ে থাক অজস্র পাগলামি

বৃহঃ, ১৪ এপ্রিল'২০১৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন


কবিতার পথে পড়ে থাক অজস্র পাগলামি  
আজ পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো শিবলী মোকতাদির-এর কবিতা ও কবিতা-ভাবনা।
কবিতা ভাবনা
কবিতাকে হওয়া উচিত- যেমন, সুঠাম নারীর নগ্ন কোমরের মতো তীক্ষ- তেমনি, প্রশস্থ  নিতম্বের মতো দায়িত্বশীল। লোভনীয় টকের রসায়নে রসসিক্ত প্রকৃত কবিতা, যেন- জল আসা জিভের জৈব হন্তারক। প্রকৃত কবিতার সমস্ত ভূগোলজুড়েই ছড়িয়ে থাকে অনাকাঙ্খিত সঙ্গমে সাড়া দেওয়ার ন্যায় এক চরম উত্তেজনা। গৃহযুদ্ধের দেশে যেমন অতর্কিত ঘুমের মাঝেও জেগে থাকে অতি বিপ্লবীরা...
কবিতা কখনো সে ঝিলিক দেয় নিত্য কিরিচের মতো। কখনো বা জং-ধরা ভিখিরির থালার ন্যায় পড়ে থাকে অচেনা ধুলোয়। নানান ম্যাজিক আর মেঘ এসে ভর করে আমার এইসব কবিতার পথে। আমার দেখা, না-দেখা, বোঝা, না-বোঝার ত্রিশঙ্কু এই ভুবনে তবু সে প্রবেশ করে। কাজেই অজাত সতীনের ন্যায় সে এসে হানা দেয় রোজ। নানান উস্কানিতে, নানান মশকরাতে নিষিদ্ধ প্রলোভনে সে কেবলই ডাকে। তারে রচিতে বলে। আমি লিখি, কাটি। গ্রহণে, প্রত্যাখানে অস্থির এক ঝড় বয়ে যায় মগজে, মনে, কোষে, কণিকায়, হাড়ের অভ্যন্তরে। কখনো সে জিতে যায়। কখনো বা হারে। আমি ঘুমিয়ে পড়ি সদ্য লেখা কবিতার আশেপাশে। প্রতিটি পঙতিকে সজোরে সাপটে ধরে।
কবিতা চিরকালই রহস্যের। সে আমাদের হাতছানি দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়, যাবে। শয়তানের ন্যায় ঘরছাড়া করবে শান্ত সুবোধ সেইসব বালক কিংবা বালিকাকে। গোপনে গোপনে সে নিরাকারের রূপ ধরে হানা দেয় আমাদের সমস্ত আর সামগ্রিক ইন্দ্রিয়তে। আর তখনই আকার হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় প্রতিটি জনের বুকে আর বাহুতে। আমি সেই কবিতার চারায় পানি ঢালতে রাজি, যে কিনা হয়ে ওঠে প্রতীকে প্রজ্জ্বলিত। যার স্তরে-স্তরে নানান বিভঙ্গে ফুটে থাকে চিত্র আর কল্পনার জটিল মিথষ্ক্রিয়া। যে কিনা আততায়ীর রূপে নিঃশব্দে ছুরির ছোবল হানতে পারে সরাসরি আমাদের মেধার মর্মমূলে। কবিতা তখনই যখন সে হয়ে ওঠে নানান দ্যোতনার। নানান চিহ্ন আর সংকেতে যে কেবল অজর-অমর জিজ্ঞাসার দিকে নিজেকে ধাবিত করে। পল হতে পলকে, চূর্ণ হতে বিচূর্ণর দিকে ।
কবিতা
গ্রামগঞ্জের হাটে
এ পথ দিয়েই যেতে হয় রোজ। একা, এই লোকটিকে
কারণ যা কিছু আছে ধীরে ধীরে হয়ে আসে ফিকে।
রোজ দেখি মাথায় নিয়েছে কিছু। সামলিয়ে একহাতে
অন্য হাত এ-কাঁধ-ও-কাঁধ করে। কোমর বাঁকে না তাতে।
করুণা হয় করা তো উচিত কিছু। ফের ভাবি যদি মারে?
এই ভয়ে হয়নি যাওয়া গৃহে। নিকটে কিংবা তার দ্বারে।
দূরে বসে হাট সন্ধ্যা সমাপ্ত হলে। এত ক্রেতা, লাগে অদ্ভুত
সে ছিল বিক্রেতা। তবে মানুষ নয়, তুলোয় জড়ানো ভূত!
অল্প একটু হোমিও ফোঁটা
×××
ছেঁড়া ঘুড়ি আর জরির পোশাকে চেনা সুতো এনেছো কৌশলে
তরুণ বান্ধবী যার বিবিধ তখন অন্য নামে ওড়ে
ওড়ে শাড়ির ভুবনে চিরদাবি— কবে হারানো সে ছেলে
আশির প্লাবনে এলো, যে আগুনে দূরে প্রেমিকার বাড়ি পোড়ে।
×××
আমাদের ফলাধার, আহা! বসন্তে ও লিচু চুরি করে চলে গেছো
রেখে— আপেলের চোখে ক্ষত, দিদির শাশুড়ি যত
বুকে আনে জল, অকারণে পুলিশ বোঝেনি মানে, কেন
ডাকাত হয়েছি অবশেষে— চিহ্ন খুঁজে তার সর্ষেমুগ্ধ দিনে।
×××
নির্জনে সে-বাহু যতিচিহ্ন আঁকা— পড়েছিলো সোনালি শৈবালে
কী-জাতি, কী-বর্ণ, মানচিত্রের কোথা হতে ভেসে এলে?
আমি নীরবে গরিব, জাতে বিষমাখা; কী করে ও-বাহু
স্পর্শ করি হাজার সততা মোর বুকে তীক্ষ্ণ ফলা।
×××
সীমানা তোমার দুই তীরে, অবারিত রহস্যে রাখো ঘিরে
অক্ষরে, বিপ্লবে শাস্ত্র আর সঙ্গীতে
যেন এই শেষবার অস্ত্রের আগমনে
বসন্ত দোলাবে তুমি, আর শীতে গৃহস্থ চমকাবে।
×××
হঠাৎ দৃশ্যের পরে ধরো গান
যদি চলে, সে রবীন্দ্রনাথ—
তুমি শাড়ির বর্ণনা খুলে
ধীরে ধীরে জ্ঞানী হয়ে ওঠো দূরের জাহাজে ঘুরে।
ল্যান্ডলর্ড
এই যে শ্রাবণ, আষাঢ় বিগত হলে ধরা পড়ে জালে
আর নাজেহাল করে ছাড়ে- রণদুন্দুভি বাজায় হাড়ে
চাষির ছেলে, শুধু চাষ নিয়ে কথা বলে ভোজনকালে
ল্যান্ডলর্ড খালি হাসে, কাশে- মেদিনী যখন ফাঁড়ে!
ওদিকে ভাঁটিও খোলা, অথচ বন্ধ হয়ে আছে গঞ্জ
বিপাকে ক্রেতা কথা বলে স্বর্ণকারে কলঙ্কের কাল
খাচ্ছি খাদ্যই। তবিবর বলে সেকি তরমুজ নাকি পঞ্জ
মহাজন এই যে দেখুন- দেখি ও দেখাই প্যারালাল।
রুক্ষ
মরুভূমির বালুর উপরে তপ্ত সৈন্যদল এসেছে প্রচুর 
তাদের বিচিত্র  গার্ড ও গর্জনে
অহেতুক ভ্রমণ ঋতুতে কাহিনি-কথন পুড়ে যায়
দূরে চিত্রে চিত্রে প্রভুর মৃত্যুতে অশ্ব নিরুপায়। 
তবু তৃষ্ণা ও ক্লান্তির আবরণ ভেঙে খনন চলছে অকারণে 
পাথুরে খাদের চারপাশে, চলছে সন্ধান।
দূরে, কৃষি খামারের কর্মী ও কোলাহল নিভে যায় ধীরে ধীরে 
যথা পড়ন্ত প্রহরে...
চলে গোপনীয়তা, চলে আগত বিদ্যার আনাগোনা, 
রাত্রীর বাতাসে জেগে থাকে, শুধু  
এলোমেলো ক্যাকটাসে- ঝুলন্ত নীল জামা।  
ঝিনুক
এক হাতে রেখেছি ঝিনুক, অন্য হাতে ব্যথা
এর কোন ব্যাখ্যা নেই, কথায় কেটেছে কথা।
এই হলো চৈত্রমাস বসন্ত এখানে বোকা
দাঁড়িয়েছো- নীরবে ঘুমের প্রান্তে তুমি একা।
দেখি মুণ্ডু ফেটে জ্যোৎস্না গড়িয়ে যায় সাদা
স্মৃতি তুমি ভস্ম আজ, বিষের বারুদে যা-তা।
এই ঋতু অতীব নিষ্ঠুর, বোঝে বৃক্ষ মানে- বট
কবিই দেখেছে শুধু ব্যথা হতে জন্মে এলিয়ট। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close