শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র চারটি কবিতা

শুক্র, ১৫ এপ্রিল'২০১৬, ১:৫০ অপরাহ্ন


গোলাম কিবরিয়া পিনু’র চারটি কবিতা  
বাড়িওয়ালা ড্রাগনের রূপ নিয়ে আবির্ভূত

ডেকে বলি-চিৎকার করে বলি
বিস্ময় ও যন্ত্রণার সাথে বলি
এমনকি সাক্ষাৎ করে বলি
সভা ডেকে বলি
বাড়িভাড়া বন্যার পানির মত বেড়ে যাচ্ছে!
আর টেকা যাচ্ছে না!
আর টেকা যাচ্ছে না!

আয়ের বেশির ভাগ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে
বাড়ি ভাড়াতেই!
এ যেন অভিসম্পাত
এ যেন লুণ্ঠনকারীর উৎসব
এ যেন বিবেকহীন উল্লাস!

এ নগরের বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া খাঁচার টিয়া পাখি হয়েও
একটু গান গাইতে পারছে না
হয়ে যাচ্ছে অসহায়-স্তব্ধ-নির্বাক-বিমূঢ়-হতবিহ্বল!
এরপরও যাদের কথা শোনার কথা
তারা শুনছে না!
সরকার, রাজনৈতিক দল-নেতা, সাংসদ ও বড় আমলা
একেবারে নিশ্চুপ! 
কেননা তাদের ফ্লাট আছে অতিরিক্ত বাড়ি আছে
সরকারি প্রাসাদ আছে
তাদের মাস শেষে বাসার জন্য সেভাবে পয়সা গুনতে হয় না!
সংসদ বসে-
সেখানে কত রকমের কথা কত রকমের হিসেব
আর আমাদের সোজাসাপটা যোগ-বিয়োগের
অঙ্কটা ওরা কেউ বুঝতে চায় না!

এই দুষ্টচক্র থেকে আমাদের জীবনচক্র কে বাঁচাবে?
এই আসুরিক ব্যভিচার থেকে আমাদের কে বাঁচাবে?

আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাসাভাড়া বাড়লেও 
কষ্টহাসি হেসে এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে কোনো রকমে বাঁচা যেত,
বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাসাভাড়া বাড়লেও
দুঃখ-কষ্ট পুটলির মধ্যে বেঁধে নিয়ে কোনো রকমে বাঁচা যেত।

বিশেষত ঢাকার বেশির ভাগ বাড়িওয়ালা ড্রাগনের রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়
ছয় মাস-এক বছর অন্তর অন্তর
যুক্তিহীন নিষ্ঠুরতার মধ্যে টেনে হেঁচড়ে ফেলে
যথেচ্ছারে-অনাচারে-অসদাচরণে-
লুণ্ঠনকারীর মতন লুঠ করে নেয়
ছিনতাইকারীর মতন ছিনতাই করে নেয় 
বেশির ভাগ মানুষের বেশির ভাগ আয়-উর্পাজন! 

বেঁচে থাকার আনন্দ যখনই আকাশে খানিকটা উঁকি দিতে ধরে
তখনই বাড়িওয়ালা তার কুড়–লে মেঘ টেনে এনে ঢেকে দেয়
সেই সাথে কখনো কখনো নীরবে কুঠারের আঘাত
আর সেই আর্তনাদ ধ্বনিত হয় না-
গুমড়ে মরে চার দেয়ালের মধ্যে!

বাড়িওয়ালা শুধু কাবুলিওয়ালা নয়
বাড়িওয়ালা মানে ভয়াবহ সন্ত্রাস ও ভয়!

অভাগী
ও পোড়ামুখী ও এলোকেশী
কার স্বর শুনে আবারও
উদ্বেলিত হও!
তুমি কি সেই ক্লেশ পীড়া সহ্য করার
অভাগী নও!

আবার কার প্রতি তোমার অনুরাগ জাগে?
আসক্তি ও তন্ময়তার জন্য
আবারও কি তৈরি হচ্ছে দুর্গতি!

একই ভাষা ও পরিভাষায়
তোমাকে আজ কোন্ নদীর জলে ভাসায়?
সেই নদী কি বর্জ্যে ভরা? নাকি স্বচ্ছতোয়া?

কার কণ্ঠধ্বনি শুনে 
নেশাতুর হয়ে প্রান্তভাগে গিয়ে
আবার তুমি তোপধ্বনি দিচ্ছ!
বেহেল ছোঁড়াদের সাথে!

তাদের থেকে আসুক যত অভয় বাণী
শনিগ্রহ কি যাবে?
আবারও হবে বিশ্বাসহানি! 

আয়ু ও পরমায়ু যেটাই বলো
বায়ু যদি না থাকে ঘরে
তাতে কি বাঁচবে?
সেই প্রশ্ন নিজেকে না করে 
তারপরও তাদের সাথে নাচবে?

ভাঙনের কুচকাওয়াজ
নদীর ভাঙন একা নয়
-নদী নিজে ভাঙে
তার সাথে কতকিছু ভেঙে পড়ে।

নদী নিঃশব্দে ভাঙনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে
ভাঙনের নীরবতা বহুকাল
থাকে অবদমনের কাল
এরপর ভাঙনের থাকেনা রাত বা সকাল!

যেকোনো ভাঙন একা নয়
ভেতরে ভেতরে
বাইরে বাইরে
কতকিছু মিলে ভাঙনের কারুকাজ,
ভাঙতে হলেও
খুলতে হয় নিজেরও ভাঁজ!
পরতে হয় সাজ-
এরপর ভাঙনের কুচকাওয়াজ!

বত্রিশ সংস্করণ
আগুনে বা বিস্ফোরণে আমাকে এখনো
ধ্বংস করা যায়নি!

আমি আমার শহরে ভ্রমণ করছি
আমি আমার পাহাড়ে উঠছি
আমি আমার নদীর জলশব্দ শুনছি
আমি এখনো আমেরিকান ব্যাঙ্কের মতন 
-দেউলিয়া হয়ে যাইনি!

আমি কারো অনুগামী হয়ে
লোলপড়া লোভে -অষ্টনিধির জন্য
কারো ঝুমকোজবার বাগানে প্রবেশ করিনি!

যদিও ক্ষমতাপাওয়া বাতিকগ্রস্ত একচক্ষু বিশিষ্ট লোকেরা
হুইসিল ফুঁকিয়ে ফুঁকিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে 
ফেলে দিয়েছে আমাকে কয়েকবার-
তবুও বাওরা হয়ে যাইনি!

সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তালগাছ নিতে পারিনি
চোখ উল্টিয়ে মন উল্টিয়ে নিজেকে-
বত্রিশ সংস্করণ করতে পারিনি
এজন্য হয়তো আয় বাড়েনি-ব্যয় বেড়েছে! 

দরোজায় খিল
কূলপরিচয়হীন মানুষের সাথেও আত্মীয়তাবোধ জাগে
কখনো কখনো অনুরাগে-
ইতরের সাথে নয়!
লোলুপতা দিয়ে প্রণয়তৃষ্ণার কাছে গেলে
তা বেলেল্লাপনা হয়ে ওঠে!

কটুমের গান ও নাড়ীর টান
অর্থলালসার কাছে আজ হার মানে-
ভোগবাসনার কাছে
ভালোবাসা ও আঁতাত
কিছুই টেকে না=
ভেঙে যায় দাঁত!
যতই হওনা নম্র ও সুশীল
যাকে ভাবো চিরসঙ্গী-সেও দেয় দরোজায় খিল!  




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close