শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

জলাধার নির্মাণ এখন কতটা উদ্দেশ্য হাসিল করবে সে প্রশ্ন এসেই যায়...!

শুক্র, ২২ এপ্রিল'২০১৬, ৯:১২ পূর্বাহ্ন


জলাধার নির্মাণ এখন কতটা উদ্দেশ্য হাসিল করবে সে প্রশ্ন এসেই যায়...!  
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, পানির সংকট দূর করতে প্রতিটি গ্রামে পুকুর খোঁড়া হবে। মন্ত্রী বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নেমে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে সরকার এই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।
এটা করা গেলে মাটির উপরের পানি যথাযথ ব্যবহার করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মাননীয় মন্ত্রী। দেশের পানি সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগ নিশ্চয় দেশবাসী স্বাগত জানাবে। কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার ধরনে যে পরিবর্তন এসেছে তাতে গ্রামে গ্রামে পুকুর কেটে জলাধার নির্মাণ এখন কতটা উদ্দেশ্য হাসিল করবে সে প্রশ্ন এসেই যায়।
এ কথা এখন একেবারে পানির মতো পরিষ্কার যে, মানুষ অতি দ্রুত গতিতে শহরমুখী হচ্ছে। যারা শহরমুখী হতে পারছে না তারাও গ্রামীণ জীবনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিতে ব্যস্ত, বিশেষ করে দৈনন্দিন জীবনে পানির চাহিদা মেটাতে মানুষ আর পুকুর বা জলাশয়ের পানির ওপর নির্ভরশীল থাকছে না। কোনো না কোনোভাবে গ্রামের মানুষ এখন টিউবওয়েল পুঁতে মাটির নিচ থেকে পানি সংগ্রহ করছে। এমন কী যাদের বাড়িতে পুকুর রয়েছে তারাও তা ব্যবহার করতে চায় না। নিজেরা মাছ চাষ করে অথবা মাছ চাষের জন্য লিজ দেয়। এটা শুধু বেসরকারি পুকুর বা জলাধারের ক্ষেত্রেই নয়, সরকারি পুকুর বা জলাধারের ক্ষেত্রেও সমান সত্য। মাননীয় মন্ত্রী যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, তিনি নিশ্চয় জানেন ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা, জেলা পরিষদের জলাশয়গুলো লিজ দিয়ে সেখান থেকে কীভাবে অর্থ আয় হয়। আর সেগুলোতে মাছ চাষ করার ফলে তা থাকে ব্যবহার অনুপযোগী অথবা সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ।
আমরা সরকারের পুকুর খনন কর্মসূচির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করি না। আমরা চাই তার বাস্তবায়ন। তা না হলে একদিকে যেমন সরকারের অর্থাৎ জনগণের অর্থ কাঙ্ক্ষিত কোনো ফল দেবে না তেমনি জলাধার নির্মাণে যে জমি ব্যবহার করা হবে তা থেকে স্বাভাবিক উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কৃষি জমি ঘাটতির এই দেশে সেটাও ভাবা দরকার। তাই বলে আমরা সরকারের এই প্রকল্প থেকে সরকারকে সরে আশার কথা বলছি না। তবে তা নেওয়া দরকার প্রয়োজন অনুযায়ী। আবার যেসব গ্রামে সরকারি পুকুর বা জলাশয় রয়েছে সেগুলো জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য আগে উন্মুক্ত হওয়া দরকার। পাশাপাশি যে সমস্ত পরিত্যক্ত খাল বা জলাশয় রয়েছে, সেগুলো দখলমুক্ত ও খনন করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সর্বোপরি দরকার বাংলাদেশের এখনো বেঁচে থাকা ও মরে যাওয়া নদ-নদী, খাল-নালায় মূল উৎস থেকে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। তা না করা গেলে সরকারের পুকুর খনন প্রকল্প কতটা কাজে আসবে মাননীয় মন্ত্রী নিশ্চয় তা জানেন। তা ছাড়া অনেক বড় বড় সেচ প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে সেচ কাজে এখন মাটির নিচের পানি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে আর পানির অভাবে সেচ প্রকল্পগুলো খাঁ খাঁ করছে। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close