শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সাহিত্য

হাজিরা লিখিয়ে আসি ভুল রোল-কলে

শুক্র, ২২ এপ্রিল'২০১৬, ১:১৬ অপরাহ্ন


হাজিরা লিখিয়ে আসি ভুল রোল-কলে  
আজ প্রিয় পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো আতোয়ার হোসেন এর কবিতা।
পীকক সাকুরা
আমারও তো যাওয়া আছে সাকুরা পীককে
কে যে কার শোকে
বমি ক’রে চেটে খায় শোকের স্মরণ
অন্তত দেখেছি একা শ-দুই ডজন
ওখানে রাতের কোলে 
ছোট ছোট লোক বড় বড় কথা বলে
ওখানে সহজে খেদ-ভরা মানুষেরা
বংশ-পরম্পরা
ধুয়ে ধুয়ে পানিতোয়া চাটে
ওখানে তারাই, যারা যুতসই খাটে
নিজেরই কলিজা কেটে-কুটে
কালো কাগজের ফুল হ’য়ে ফুটে
বিবর্ণ জীবন-আঁকেবাঁকে
ধ্বনির ট্রাফিকে জমে থাকে
ঘায়ে ঘঁ’ষে নখ
বাপ-মরা শোক
ভুলে যেতে তারা
পীকক সাকুরা
দাপিয়ে সদল চক্রপাকে
মাতিয়ে মাথায় তুলে রাখে
ওখানে তবুও শত্রু-মিত্র
ওখানে একত্র
ওখানে সকলে বড়ভাই
ওখানে সন্ধ্যায় তবু দল বেঁধে যাই
বাতাসের শিল্পকলা জুড়ে দিয়ে রোজ
ভুল চর্চার চর্চিত খোঁজ
বমিতে ভাসিয়ে দলে দলে
হাজিরা লিখিয়ে আসি ভুল রোল-কলে
জলে  বাষ্প, বাষ্পে মেখে ধোঁয়া
রসময় শাদা পানিতোয়া
মুখের বদলে ফেলে জলে
ছোটরাই বড় কথা বলে
কেনো যে পথের ধারে পথ
কেনো এতো সরল বিপথ
উঁচু ধাপে নিচু শ্রেণি কোনোই বা যায়
কেনো যে হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগায়
বালিকাবিভ্রম
বালিকার হে অভয়াশ্রম,
ক্ষম আজি মম ভ্রান্তিভ্রম।
তুমি সাধু মায়া কিবা নদী
বহ নিরবধি;
ছম ছলাৎছলাৎ বোল।
পাড়-ভাঙা পাড়ে বালিকারা
বালকের অমন আস্কারা
মাথায় চাপিয়ে খাচ্ছে দোল।
কল নাই কাঠি নাই হাতে,
এ-দৃশ্য থামাই আমি কীসের আঘাতে?
দেখিস, মনে পড়ে যাবে সব
আমাদের এই ল্যাম্পপোস্ট, নিয়নের আলো, ঠিক তোর মনে প’ড়ে যাবে। ভিক্টোরিয়ার বারান্দা জুড়ে বনসাই, তাক তাক বই, সবকিছু জ্বলজ্বল ক’রে ভাসবে চোখের আকাশে।
কিছু মুখ হলুদ ফ্যাকাসে, তবু পরিচিত; মনে প’ড়ে যাবে তবু বর্ণমালার ঠিকানা। ভুল হবে না বনলতার বাড়ি, নাটোরের ইতিহাস, কৈশোর-আত্মীয়পাড়া, আর যারা পথের মানুষ; মানুষের কিছু নাম!
ফেলে যাওয়া একটা বারান্দার কথা খুব মনে হবে, চারতলায় নিঃশব্দে খুলে যাবে টিনের কপাট; পাট পাট সিঁড়ি ভেঙে প্রত্যাবর্তনের পথ চেনা হবে, অথচ প্রত্যাবর্তন সহজ হবে না।
চেয়ার, ভুলেছে ও-চেহারা
ওই জানালার পাশে, ওই চেয়ারের হাত, গোদি,  যদি কাতরায়, আমাদেরও ভারি হয়ে ওঠে মন। টুং টাং গেলাসের গান; গানের আশায় আমাদেরও পেতে রাখা কান, বেদনায় বিঁধে। শাদাসিধে বোকার মগজে আমাদের আবেগের তোলপাড়, দোল খায়, ব্যবসা বোঝে না। ওরা বোঝে, ওরা ওই চেয়ারের উপযোগ আরেকটা চেয়ারের মতো ঠিকই বুঝে নেয়। একটা সন্ধ্যারাত, একজন রফিক আজাদ, ব্যবসার কাছে তুচ্ছ মনে হয়।
ওরা, সাকুরা, ওই দিনই কী ক’রে বেচে দেয় রফিকের জানালা, চেয়ার, সমস্ত পরিচয়! 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close