শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » মুক্তমন

ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা বিএনপি-জামায়াতের

শুক্র, ০৬ মে'২০১৬, ২:১৪ অপরাহ্ন


ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা বিএনপি-জামায়াতের   
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফারনান্দো তারানকোকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তিনি সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানে উভয় দলের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আমরা সবাই জানি তারানকোর সফরের ফলাফল কী ছিল! ‍
সে সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাও ব্যর্থ হন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ লাভে। কেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বিশাল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে অবজ্ঞা করতে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র রাষ্ট্র এত বড় সাহস দেখাল? আমি মনে করি, এটা মহাজোট সরকারের পরিকল্পিত বার্তা। কারণ ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে চীন, ভারত ও রাশিয়ার স্বার্থ অভিন্ন। যদিও চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয়টা হল, যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা টাফট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডেনিয়েল ডব্লিউ ডেজনার ২০০৭ সালে তার লিখিত এক প্রবন্ধে এ্যাকাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে একবিংশ শতাব্দীর, “নতুন বিশ্বব্যবস্থার” সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছিল চীন ও ভারতকে। তার মতে, বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপের কয়েকটি দেশ। একবিংশ শতাব্দীতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বের উদীয়মান রাষ্ট্র হচ্ছে চীন ও ভারত।
আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই দাবী করতে শুরু করেছে, চীন পৃথিবীর প্রথম অর্থনৈতিক শক্তি আর ভারত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমি মনে করি, ওই সময় পৃথিবীতে চীন প্রথম অর্থনৈতিক ও ভারত তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তারা তাদের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চাইবে না— বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত রাজনীতিতে আবার প্রতিষ্ঠিত হোক। এরও অনেকগুলো কারণ আছে।
প্রথমতঃ পাকিস্তান বিভিন্নভাবে জঙ্গীবাদকে মদদ দিতে গিয়ে নিজেকে ক্রমাগত ভঙ্গুর করে ফেলেছে। এবং এটি এখন বাংলাদেশ, ভারত ও চীনকে হুমকিগ্রস্ত করে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই উপমহাদেশে মৌলবাদ বিস্তারের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা পালন করেছে। যার ফলে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতে অনেকগুলো সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। যার দায় জঙ্গী সংগঠন স্বীকারও করেছে।
আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই দাবী করতে শুরু করেছে, চীন পৃথিবীর প্রথম অর্থনৈতিক শক্তি আর ভারত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমি মনে করি, ওই সময় পৃথিবীতে চীন প্রথম অর্থনৈতিক ও ভারত তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তারা তাদের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চাইবে না— বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত রাজনীতিতে আবার প্রতিষ্ঠিত হোক। এরও অনেকগুলো কারণ আছে।

দ্বিতীয়ঃ বিগত তিন-চার দশকের মার্কিন রাজনীতি ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়— মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, মৌলবাদকে মদদদান, মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তৈরী ও পৃষ্ঠপোষকতা, একেক মুসলিম রাষ্ট্রে একেক ধরনের নীতি গ্রহণের মাধ্যমে এমন এক জাল বিস্তার করে ছিল এবং আছে যে, আবেগপ্রবণ মুসলিমরা সহজেই এই ফাঁদে পা দিয়েছে। এবং নিজেদের এক ধরনের শিকারে পরিণত করেছে। এমনকি জিয়াউর রহমানও এই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।
এরপর বিএনপির শাসন আমলে জেএমবির নেতা বাংলাভাইয়ের নৃশংস অত্যাচারের মধ্য দিয়ে যদিও বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের দৌরাত্ম্য প্রথম টের পাওয়া গিয়েছিল— কিন্তু তা ছিল একটা সংহত রূপ। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদী চেতনা ও প্রচারণা বহুকাল ধরেই ছড়িয়েছে। এর সূচনা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজাকারদের পুনর্বাসন এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার মাধ্যমে।
এটি প্রথমে ছিল মৌলবাদী মোড়কে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় জামায়াত নেতা তৎকালীন মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর এই উক্তি থেকে যে, “এ দেশে জঙ্গিবাদ বলে কিছু নেই, সবই মিডিয়ার বানানো”। অথচ পরে যখন একযোগে প্রায় সব জেলায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, বাংলা ভাইয়ের নৃশংসতার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে, ২১আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, সিনেমা হল, উদীচী ও ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা ও বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে— তখন কেবল জামায়াতই নয়, বরং তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির অনেক নেতারও সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়।
এরপর ২০১৫ সালের শুরুতে পাবলিক স্পেসে এবং বাসে একের পর এক বোমা হামলা করে অসংখ্য মানুষকে পুড়িয়ে মারা, পুলিশের ওপর হামলাসহ বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
সম্প্রতি যে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপর এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে তাতেও এই একই গোষ্ঠীর দিকে সন্দেহের বা সম্পৃক্ততার তীর গিয়ে পড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চীন, ভারত ও রাশিয়ার অবশ্যই বিষয়গুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেই এশিয়ার রাজনীতিতে তাদের ভূমিকাকে স্পষ্ট করবে। সেক্ষেত্রে চীনের সাথে ভারতের বিরোধ বা সমস্যা থাকলেও এশিয়ার অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে, তথা তাদের যথাযথ উত্থানের বিএনপি ও জামায়াতকে পাত্তা দেবে না বলেই আমার অভিমত। 
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close