শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » খুলনা

যশোরে মেলার নামে চলছে অর্ধকোটি টাকার লটারি-বাণিজ্য

শনি, ১৪ মে'২০১৬, ১২:০১ অপরাহ্ন


যশোরে মেলার নামে চলছে অর্ধকোটি টাকার লটারি-বাণিজ্য  
মেলায় প্রবেশ টিকিটই লটারির টিকিট। মেলা শেষে র্যাফল ড্রর নামে চলছে লটারি নামক জুয়া। শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয়, এই টিকিট মাইক বাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। আর পুরস্কারের মোহে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ।
যশোরের জেলা প্রশাসন বলছে, তারা যশোরের টাউন হলে মাসব্যাপী শুধু গ্রামীণ শিল্পসামগ্রীর মেলার অনুমোদন দিয়েছে। কোনো ধরনের লটারির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
তাহলে এই লটারির আয়োজন কোথা থেকে এল?
৫ থেকে ৮ মে ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেল, মেলার আয়োজক যশোর প্রেসক্লাব। ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া মেলায় পণ্যসামগ্রীর দোকান ৭০টি। লটারিই মেলার মূল আকর্ষণ। প্রবেশ টিকিট ওরফে লটারির টিকিট বিক্রি করতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে টাউন হল মাঠ থেকে ১০০টির বেশি ইজিবাইক ছুটছে জেলা সদরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঘটা করে চলছে টিকিট বিক্রি। এ ছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় আছে ৩০টির মতো টিকিট বুথ।
প্রতিদিন অন্তত এক লাখ টিকিট বিক্রি হয়। সে হিসাবে টিকিট বিক্রি থেকে প্রতিদিনের আয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। রাত ১০টায় শুরু হয় র্যাফল ড্র। ড্র অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয় স্থানীয় কেব্ল অপারেটর ‘সিটি কেব্ল’-এর মাধ্যমে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন পুরস্কার দেওয়া হয় ৪৩টি। তবে একেক দিনের পুরস্কার একেক ধরনের। বেশির ভাগ দিনই চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল, একাধিক ফ্রিজসহ নানান পুরস্কার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোরের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক প্রথম আলোকে বলেন, লটারির প্রতি মোহগ্রস্ত সাধারণ মানুষ তাদের আয়ের একটি বড় অংশ হারিয়ে ফেলছে। প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে এগুলো করা হচ্ছে প্রশাসনের চোখের সামনে।
একাধিক সূত্র জানায়, মেলার আয়োজক হিসেবে প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করা হলেও এর সঙ্গে জড়িত যশোরের দুটি প্রভাবশালী ক্লাব। এর সঙ্গে রাজনীতি ও প্রশাসনের কিছু ব্যক্তিও পরোক্ষভাবে জড়িত। সে কারণে যশোরের সুধী সমাজের অনেকেই এ নিয়ে সমালোচনামুখর হলেও প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।
মেলার সমন্বয়কারী হিসেবে সব কাজ করছেন যশোর পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর হাজি সুমন। তিনি দাবি করেন, এখানে অবৈধ কিছুই হচ্ছে না। স্বচ্ছতার মধ্যেই সবার সামনেই লটারি হচ্ছে। সবাই পুরস্কার পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মেলার আয়োজক প্রেসক্লাব। আমি শুধু সব ঠিকমতো চলছে কি না তা দেখছি। লটারি পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে তামান্না এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়েছি।’
স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, এর আগেও যশোরে এ ধরনের মেলা হয়েছে। প্রবেশ টিকিটের নামে লটারির আয়োজন আইনগত ও নৈতিক দিক থেকে ঠিক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনার কোনো যুক্তিই আমি খণ্ডন করতে পারছি না।’
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মেলার অনুমোদন দেয় জেলা প্রশাসন।
যশোরের জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল হাসান জানান, জেলা প্রশাসক দেশের বাইরে আছেন। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবকে মেলার জন্য যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেখানে স্পষ্টই উল্লেখ করা আছে, ‘হাউজি, লটারি, জুয়া খেলার আয়োজন করা যাবে না। লটারির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: প্রথমআলো




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close