শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

লবণ পানিতে উজাড় সভ্যতা

শুক্র, ২০ মে'২০১৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন


লবণ পানিতে উজাড় সভ্যতা   
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিামঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে মানুষ। জাতিসংঘের আশঙ্কা―জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলে দিন দিন লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ৩৫ বছরে এই অঞ্চলের আড়াই কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হবে।
লবণ পানির ঊর্ধ্বমুখিতা বা প্রভাবের কারণে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ যাচ্ছে কোথায়? ―এমন প্রশ্নের অংশ বিশেষের জবাব রয়েছে- শহর-বন্দরের বস্তিতে। বাস্তুভিটা ছেড়ে এদের বৃহৎ অংশই কাজের খোঁজে শহর-বন্দরে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে তারা থাকছে বস্তিতে বা সরকারি পরিত্যক্ত জায়গায় ঝুপড়ি তুলে। এদের পুরুষরা রিকশা চালায় বা জন-মজুরির কাজ করে। মেয়েরা ঘর সামলানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ি বা মেসে কাজ করে। শহর-বন্দরে আসা বাড়তি এই জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার বাইরেই থেকে যায়। দুই-একটি ব্যতিক্রম বাদে এদের শিশুরা থাকে শিক্ষাবঞ্চিত। নারী-শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা, পুষ্টি সমস্যা থাকে মূল ধারার বাইরে। নগরে-বন্দরে এসে ঠাঁই নিলেও স্বপ্নহীন, সাধ্যহীন এক জনগোষ্ঠীই বেড়ে উঠছে এভাবে। শহর-বন্দরে এদের ঠাঁই দিতে বেড়ে উঠছে বস্তি ও ঝুপড়ি।
জাতিসংঘের আশঙ্কা সত্য হলে আগামী ৩৫ বছরে যে আড়াই কোটি মানুষ শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হবে, তারাও ঠাঁই নেবে এখানে। তাহলে অবস্থা কী দাঁড়াবে সহজেই তা অনুমেয়।
তাই এ ব্যাপারে করণীয় এখনই ঠিক করা দরকার। বাস্তুচ্যুত মানুষ কোথায় আশ্রয় নিল তার চেয়ে বড় কথা- কেন মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, কীভাবে তা রোধ করা যায় তার উপায় খুঁজে বের করা।
আমরা যত দূর জানি, গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধ দেওয়ার কারণেই এই অঞ্চলের নদ-নদীগুলো মরে যাচ্ছে। আর ওপর থেকে মিঠাপানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় বঙ্গোপসাগর থেকে ক্রমান্বয়ে লবণ পানি উজানে ধেয়ে যাচ্ছে। এভাবেই লবণাকৃত হয়ে যাচ্ছে এককালীন ফসলি জমি। ছারখার হয়ে যাচ্ছে জনজীবন। সভ্য জনগোষ্ঠী হারিয়ে ফেলছে তার পরিচয়। এই সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা আমরা রাখি কি না সে প্রশ্নও এখন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close