শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » দেশের খবর

৭৫% শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত:নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের

মঙ্গল, ১২ Jul'২০১৬, ১:১৪ অপরাহ্ন


৭৫% শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত:নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  
সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা বলছেন, দেশের প্রথম সারির এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত।অপ্রয়োজনীয় চাপ ও ইন্টারনেটে আসক্তি— সর্বোপরি মুক্ত পরিবেশের অভাব, যা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত করে তুলছে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষাদগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে আসার সহায়ক কোনো পরিবেশ নেই। আর এ কারণেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো

অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা কর্মকর্তা আতিয়া আরেফিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক

কবিরুল বাশার, আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ফারাহ পারিশা ভুঁইয়া, ইবনে সিনা

হাসপাতালের সাইকোথেরাপিস্ট মাসুদা খানম তিথি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) জনস্বাস্থ্য

বিষয়ের এমফিল শিক্ষার্থী মনোয়ারুল হক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জরিপটি পরিচালনা করেন।

জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি ‘ইন্টারনেট ডিপেন্ডেন্সি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ডিপ্রেশন অ্যামাং দ্য স্টুডেন্টস অব নর্থ

সাউথ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক নিবন্ধটি গত মে মাসে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ই-ক্রোনিকন জার্নালে প্রকাশ হয়।

ওই প্রতিবেদনেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতায় ভোগার এ চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে ‘অ্যান ইন ডেপথ অ্যানালাইসিস অব হেলথ হ্যাজার্ড অ্যান্ড ডিসফাংশনাল স্ট্রেসেস ইন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’ শিরোনামে

একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মুহাম্মদ ফয়সল চৌধুরী।

অপ্রয়োজনীয় চাপের ফলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন, সে চিত্র উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনটিতে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৪০০ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে ‘ইন্টারনেট ডিপেন্ডেন্সি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন

উইথ ডিপ্রেশন অ্যামাং দ্য স্টুডেন্টস অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া ২৬৮ জন শিক্ষার্থীই ছিলেন মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত। আর মানসিক এ অবসাদগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি

প্রভাব রেখেছে মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার। বিষাদগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ৩১ শতাংশ ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির চারটি অনুষদের (স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস,

স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সেস) প্রতি অনুষদ থেকে ১০০ করে মোট ৪০০ শিক্ষার্থী জরিপে অংশ নেন। অংশ নেয়া

শিক্ষার্থীদের ৫৬ শতাংশ ছাত্র ও ছাত্রী ৪৪ শতাংশ।

জরিপে ‘ইয়াং ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডায়াগনস্টিক কোয়েশ্চেনারি’ শীর্ষক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

আর হতাশার মাত্রা নির্ণয় করা হয়েছে সিইএস-ডি স্কেল ব্যবহার করে। তাতে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে আসক্ত।

ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এমন শিক্ষার্থীর হার ৩৭ শতাংশ। আর দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ইন্টারনেটে ব্যয়

করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

বিএসএমএমইউর মনোবিজ্ঞান বিভাগের চিকিত্সক ডা. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করলে এর ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে।

পাশাপাশি একটি মোহ তৈরি হতে থাকে। ফলে ইন্টারনেটে আসক্ত ব্যক্তি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিষয়গুলোও বিশ্বাস করতে শুরু করে।

সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এর সুযোগ নিতে পারে।’

‘অ্যান ইন ডেপথ অ্যানালাইসিস অব হেলথ হ্যাজার্ড অ্যান্ড ডিসফাংশনাল স্ট্রেসেস ইন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় চাপের বিভিন্ন দিক উল্লেখ তুলে ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে— ক্যাম্পাসের মধ্যে ধূমপান, নোংরা রান্নাঘর ও ক্যান্টিন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, মশার উপদ্রব, নোংরা শ্রেণীকক্ষ ও অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার।

আর অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে রয়েছে— সপ্তাহ শেষে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া, রি-অ্যাডভাইসিং, শিক্ষার্থীবান্ধব ওয়েবসাইটের

অনুপস্থিতি, একদিনে টানা অনেকগুলো পরীক্ষা গ্রহণ, নিম্নমানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, খাবারের উচ্চমূল্য, কর্তৃপক্ষের দ্বৈতনীতি ও

জার্নাল সংগ্রহের অপ্রতুলতা।

এ প্রসঙ্গে জানতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য

করতে রাজি হননি তারা।



এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close