শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » দেশের খবর

কর্ণফুলী পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী মাসে

সোম, ২৫ Jul'২০১৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন


 কর্ণফুলী পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী মাসে  
আগামী আগস্ট মাসে বহু প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম ওয়াসার সর্ববৃহত্ কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে। আর পাঁচ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। বহু বাধা অতিক্রম করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগছে প্রায় ১১ বছর। দৈনিক ১৪ কোটি লিটার উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীকে চাহিদার ৭০ শতাংশ পানি সরবরাহ দিতে সক্ষম হবে ওয়াসা।
 
চট্টগ্রাম ওয়াসার সর্ববৃহত্ প্রকল্প কর্ণফুলী পানি শোধনাগার। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগছে প্রায় ১১ বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ওয়াসাকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। চট্টগ্রাম শহর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পোমরা এলাকায় প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। ২০০৮ সালে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিয়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন হয়। ভূমি অধিগ্রহণ শেষে ডিজাইন, ড্রয়িং ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে ২০১১ সালে তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রায় ১০ মাস প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকে। ২০১৪ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর গত জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ প্রসঙ্গে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক জহিরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রকল্পের রিজার্ভার ও সরবরাহ লাইন নির্মাণ কাজ চার মাস আগে শেষ হয়েছে। শোধনাগার নির্মাণ কাজ আগামী ২৪ আগস্ট শেষ হবে বলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। আশাকরি খুব দ্রুত সময়ে নগরবাসীকে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহ দিতে পারবো। এতে চাহিদার মোট ৭০ শতাংশ পানি সরবরাহ করতে সক্ষম হবে ওয়াসা।’
 
ওয়াসা জানায়, প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্যাকেজের মধ্যে পানি শোধনাগার এবং ইনটেক ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণ করছে একটি চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত দীর্ঘ ৭৮ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপলাইন নির্মাণ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান কুবোতা-মারুবেনি জে-ভি। নগরীর নাসিরাবাদ ও বাটালী হিল এলাকায় দু’টি রিজার্ভার নির্মাণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোলন-গ্লোবাল কর্পোরেশন। রিজার্ভার এবং ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন নির্মাণকাজ প্রায় চার মাস আগে শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
 
ওয়াসা জানায়, নগরীতে বিশুদ্ধ পানির দৈনিক চাহিদা ৫০ কোটি লিটার। আর ওয়াসা সরবরাহ করছে দৈনিক ২১ কোটি লিটার। মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও ৯৪টি গভীর নলকূপ থেকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এসব পানি সরবরাহ দিচ্ছে। ১৯৮৭ সালে মোহরা এলাকায় দৈনিক নয় কোটি লিটার পানি পরিশোধের ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বিগত ২৮ বছরে আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি ওয়াসা। কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ বাড়বে।
 
পাশাপাশি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প (২য় পর্যায়) নামে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে ওয়াসা। এটি ২০১৬ সালে একনেকে অনুমোদিত হয়। জাইকা ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ডিজাইন ও ড্রয়িং তৈরির কাজ শেষ করেছে। ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এটি থেকেও দৈনিক আরো ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া মদুনাঘাট এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দৈনিক নয় কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ পেয়েছে



এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close