শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » দেশের খবর

নববধূ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন যশোরের ‘জঙ্গি’ মুন্না

সোম, ২৫ Jul'২০১৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ন


নববধূ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন যশোরের ‘জঙ্গি’ মুন্না  
পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘কথিত জঙ্গি’ নিখোঁজ তুহিন ওরফে মুন্না (২৪) স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। রবিবার দুপুরে মুন্না তার মা-বাবা, শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও এলাকার কমিশনারকে নিয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন।
 
মুন্না দাবি করেন- মায়ের ওপর অভিমান করে দুই বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। পুলিশ বলছে, নিখোঁজ ওই তরুণের মা-বাবাই তাদের সন্তান জঙ্গি বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছিল।  আর মুন্নার মা-বাবা বলছেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী তারা সন্তানের নিখোঁজ হবার খবরটি থানায় জিডি করেন মাত্র। নিখোঁজ থাকা আর সেই জিডির কারণে পুলিশ তাকে জঙ্গি বানিয়ে দিয়েছে। পুলিশ মুন্নাকে হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মুন্নার বাবা সোবহান মোল্লা এলাকার চা দোকানদার।
 
মুন্না বলেন, ২০১০ সালে তিনি যশোর সিটি কলেজে একাউন্টিংয়ে অনার্স ভর্তি হন। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। নানা ধরনের কাজ করে তিনি উপার্জন করতেন। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মায়ের বকুনিতে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যাই। প্রথমে জিনজিরায় ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করতাম। পরে ইসলামবাগের এসি মসজিদ গলিতে মাইশা প্লাস্টিক কোম্পানিতে অটোমোল্ডিং মেশিনের কারিগরের চাকরি নিই। বিয়ের জন্য সেখান থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমি পছন্দ করে বিয়ে করতে চাইলে মেয়ের বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের হাজির করার কথা বলেন। এজন্য গত শনিবার বাড়িতে মোবাইলে যোগাযোগ করলে জানতে পারি, আমাকে জঙ্গি বলে পুলিশ প্রচার করছে। আমি যে জঙ্গি না, সেটা প্রমাণ করতে বাড়ি এসে পুলিশের কাছে হাজির হয়েছি।’
 
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুর ২টায় ঢাকার ইসলামবাগে মেয়ের বাড়িতে এক লাখ এক টাকা কাবিনে ইয়াসমীন আক্তারের সাথে আমার বিয়ে হয়। ইয়াসমীনের বাবা মনির খান বাংলাবাজারের একটি বইয়ের দোকানের সেলসম্যান। বিয়েতে যশোর থেকে গিয়ে মুন্নার মা, বাবা, বোন, দুলাইভাইরা অংশ নেন। এরপর সন্ধ্যায় তারা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে রবিবার ভোরে যশোরে এসে পৌঁছান।
 
মুন্নার মা শিরিন আক্তার বলেন, দুই বছর আগে এলাকার দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় তাকে বকাঝকা করি এবং বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলি। সেইদিনই সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এর পর থেকে সে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরই মধ্যে সরকার থেকে নিখোঁজ সন্তানদের ব্যাপারে থানায় তথ্য দিতে বলা হলে আমরা এলাকার কমিশনারকে নিয়ে ১০ জুলাই কোতোয়ালি থানায় জিডি করি।
 
এদিকে, যশোর পুলিশ পাঁচজনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়ে পোস্টার ছাপিয়েছে। রবিবার সেই পোস্টার জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই পাঁচজনের একজন কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না (২৪)।
 
পুলিশের তালিকাভুক্ত অপর চার সন্দেহভাজন জঙ্গি হলেন- যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার কাজী হাবিবুল্লাহার ছেলে ও সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র কাজী ফজলে রাব্বি (২১), শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের আওরঙ্গজেবের ছেলে মেহেদী হাসান জিম (১৯), যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে রায়হান (২১) ও মনিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত হাসান আলী গাজীর ছেলে জিএম নাজিম উদ্দিন ওরফে নকশা নাজিম (৪২)।
 
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদের মধ্যে দুইজনের পরিবার তথ্য দিয়েছে তাদের ছেলে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের একজন মুন্না। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আইনগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। মুন্না ফিরে এসেছে। আমরা তার বিষয়ে তদন্ত করে দেখব। যদি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া যায়, তবে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। আর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close