শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » খেলাধুলা

জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

সোম, ২৪ অক্টোবর'২০১৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন


জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ  
চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে জয় থেকে ৩৩ রান দূরে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল চতুর্থ দিন শেষে স্বাগতিকরা করেছে ৮ উইকেটে ২৫৩ রান। হাতে রয়েছে আরো দুই উইকেট। উইকেটে রয়েছেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সাব্বির ও তাইজুল। এর আগে গতকাল সকালে ৮ উইকেটে ২২৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। মাত্র ২৬ বল মোকাবেলায় দলের স্কোরের সাথে ১২ রান যোগ করে শেষ দুই ব্যাটসম্যান আউট হলে ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় অতিথিরা। জয়ের জন্য ২৮৬ রানের দাঁড়ায় স্বাগতিকদের সামনে। বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক টেস্টেই অর্ধশতক করেছেন সাব্বির। অভিষেক হওয়া কোনো বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যান এর আগে চতুর্থ ইনিংসে অর্ধশতক করতে পারেননি। প্রথমবারের মত এই কৃতিত্ব অর্জন করে নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছে গেলেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। ১৩৪ মিনিটে ৭৬ বল খেলে এই রান করেন তিনি। অন্যদিকে ১১ বছর পর টেস্ট খেলতে নামা ইংলিশ বোলার গ্যারেথ বেটিও গতকাল চমক দেখিয়েছেন। ১৭ ওভার বল করে বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান মমিনুল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকের উইকেট তুলে নেন তিনি।
 
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা করেন যথারীতি দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। মঈন আলী ও গ্যারেথ বেটিকে দিয়ে আক্রমণ শুরু করে ইংল্যান্ড। নবম ওভারে গ্যারেথ বেটির বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তামিম। লং অন অঞ্চলে হাসিব হামিদ ক্যাচ ফেলে দিলে জীবন পান তামিম। পরের ওভারে মঈন আলী তামিমের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদন করলেও রিভিউতে তা নাকচ হয়ে যায়। তবে পরের বলে আর রক্ষা পাননি তামিম। শর্ট লেগে গ্যারি ব্যালান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৭৮ করা তামিম গতকাল করেন মাত্র ৯ রান। তামিম-ইমরুলের উদ্বোধনী জুটি ৩৫ রান করে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় লাঞ্চের মিনিট পাঁচেক আগে দলীয় ৮১ রানে। আদিলের বলে রুটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৪৩ রানে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। কায়েস-মমিনুলের দ্বিতীয় উইকেট জুটি দলের স্কোরে যোগ করে ৪৬ রান। লাঞ্চ বিরতির আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২২ ওভারে ২ উইকেটে ৮৬। ২৭.৫ ওভারে দলীয় ১০৩ রানে বেটির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মমিনুল। ৪৭ বলে ৪ বাউন্ডািরতে ২৭ রান করেন তিনি। এরপর রিয়াদের সাথে যোগ দেন সাকিব। তবে এই জুটি মাত্র ৫ রান করার পরই ব্যক্তিগত ১৭ রানে রিয়াদ আউট হয়ে যান গ্যারেথ বেটির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। এসময় ৩০ ওভারে দলের স্কোর ছিল ১০৮। পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বেটি বেকায়দায় ফেলেন স্বাগতিকদের। উইকেটে আসেন মুশফিক।
 
৪১তম ওভারে মঈন আলীর বলে উইকেটকিপার বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাকিব আউট হয়ে যান ২৪ রানে। প্রথম ইনিংসেও তাকে একইভাবে শিকার করেছিলেন মঈন আলী। তফাত্টা শুধু এই যে আগেরবার সাকিবকে স্টাম্পড আউট করেছিলেন বেয়ারস্টো। এবারও সেই বেয়ারস্টোই ক্যাচ আউট করলেন সাকিবকে। এরপর ষষ্ঠ জুটিতে সাব্বিরকে সাথে নিয়ে মুশফিকের ইনিংস মেরামতের লড়াই শুরু হয়। আশার আলোও দেখাচ্ছিলেন তারা। তবে আশায় বাদ সাধেন ১১ বছর পর টেস্ট খেলতে নামা গ্যারেথ বেটি। ৬৭.৪ ওভারে মুশফিককে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করে স্বাগতিকদের মনোবলে বড় আঘাত হানেন গ্যারেথ বেটি। বেটির একটি ঝোলানো বলে অযথাই খোঁচা মারতে গিয়ে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে গ্যারি ব্যালান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান অধিনায়ক মুশফিক। ষষ্ঠ জুটি যোগ করেন ৮৭ রান যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই জুটির চতুর্থ সর্বোচ্চ সংগ্রহ। মুশফিক ১২৪ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৩৯ রান করেন। এরপর সাব্বিরের সাথে যোগ দেন মিরাজ। তবে টিকেছিলেন মাত্র ৯ বল। ৭১তম ওভারে মিরাজকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে আউট করেন ব্রড। মিরাজের পর উইকেটে আসেন রাব্বী। তিনিও টিকেছিলেন ৩ বল। দলীয় ২৩৮ রানে নিজের রানের খাতা শূন্য রেখেই আউট হয়ে যান তিনি। নবম জুটিতে সাব্বিরের সাথে যোগ দেন তাইজুল।
 
এর আগে গতকাল সকালে দিনের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। সাকিবের ওভারের পঞ্চম বলে ক্রিস ওকস রান নেয়ার চেষ্টা করলে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা মিরাজ দ্রুত বল কুড়িয়ে পাঠিয়ে দেন কিপার মুশফিকের কাছে। নন স্ট্রাইকিং ব্যাটসম্যান স্টুয়ার্ট ব্রড ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই মুশফিক উইকেট ভেঙে দেন। স্টুয়ার্ট ব্রড আউট হন ২৭ বল মোকাবেলায় ১০ রান করে। ৮১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে গ্যারেথ বেটিকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল। ৮ বল মোকাবেলায় ৩ রান করে আউট হন ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য ২৮৬ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড। 
 
সংক্ষিপ্ত স্কোর
 
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯৩। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৪৮
 
ইংল্যান্ড ২য় দ্বিতীয় ইনিংস: বেন স্টোকস ৮৫, বেয়ারস্টো ৪৭, বেন ডাকেট ১৫, মঈন আলী ১৪, অ্যালিস্টার কুক ১২। বোলিং: সাকিব ৫/৭৯, মিরাজ ১/৫৮, তাইজুল ২/৪১, কামরুল ১/২৪।
 
বাংলাদেশ ২ ইনিংস: ২৫৩/৮ (৭৮ ওভার)। সাব্বির ৫৯, ইমরুল কায়েস ৪৩, মুশফিক ৩৯, মমিনুল ২৭, সাকিব ২৪, রিয়াদ ১৭, তাইজুল ১১। বোলিং: গ্যারেথ বেটি ৩/৬৫, স্টুয়ার্ট ব্রড ২/২৬, মঈন আলী ২/৬০, আদিল রশিদ ১/৫৫।




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close