শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য

মানুষদের পুরুষাঙ্গে হাড় না থাকার কারণ আবিষ্কার!

শনি, ১৭ ডিসেম্বর'২০১৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন


মানুষদের পুরুষাঙ্গে হাড় না থাকার কারণ আবিষ্কার!  

বেশির ভাগ প্রাইমেট এবং মাংসাশী প্রাণীর পুরুষাঙ্গে হাড় থাকে। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের পুরুষাঙ্গের হাড় হারিয়েছেন কয়েক লাখ বছর আগে।

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, কেন আমাদের মানুষদের পুরুষাঙ্গে হাড় নেই। যেমনটা আছে শিম্পাঞ্জি, ভাল্লুক এবং অন্যান্য বেশির ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর পুরুষাঙ্গে।

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে পুরুষাঙ্গের বিবর্তন ঘটে ১৪৫ থেকে ৯৫ মিলিয়ন বছর আগে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক নতুন গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক, ম্যাটিল্ডা ব্রিন্ডল দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, মানুষদের পুরুষাঙ্গে হাড় না থাকার একটি কারণ আমরা খুব বেশি সময় ধরে যৌন মিলন করি না যে আমাদের পুরুষাঙ্গে হাড় থাকা লাগবে।

তিনি বলেন, মাংসাশী এবং প্রাইমেটদের একই উত্তরসূরিদের পুরুষাঙ্গে হাড় ছিল।
যেসব প্রাইমেট তিন মিনিট বা আরো বেশি সময়ের জন্য যৌন মিলন করে তাদের পুরুষাঙ্গে হাড় থাকে। অন্যদিকে, যে প্রাইমেটরা তিন মিনিটের কম সময় ধরে যোনিবিদ্ধ করে তাদের পুরুষাঙ্গে হাড় থাকে না।

মানুষ পুরুষদের যৌনিবিদ্ধকরণ সময়কাল হয় গড়ে মাত্র দুই মিনিটেরও কম। যা বেশির ভাগ মানুষেরই কাম্য নয়।

আয়ে-আয়ে নামের এক নিশাচর লেমুর একবারে টানা এক ঘণ্টা ধরে সঙ্গম করে। আর এই প্রাণীর পুরষাঙ্গের হাড়টিও অনেক লম্বা।

মিজ ব্রিন্ডল বলেন, মৌসুমি প্রজননে অভ্যস্ত এবং বহুগামী প্রজননপদ্ধতির প্রজাতিগুলোর মধ্যেও লম্বা পুরষাঙ্গের হাড় দেখা যায়।

বহুগামী যৌনতা বা প্রজননপদ্ধতি বলতে বুঝায় একাধিক নারী-পুরুষের পরস্পরের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া। যেমনটা দেখা যায় শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে।মানুষদের মধ্যেও বহুগামিতা দেখা যায়। তবে অতটা বেশি নয় যতটা হলে পুরুষাঙ্গে হাড় থাকা দরকার।

মানুষদের পুরুষাঙ্গে হাড় না থাকার আরেকটি কারণ মানুষরা সারা বছরজুড়েই যৌনতা ও প্রজননে লিপ্ত হয়। এবং অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তাদের মানুষদের যৌনতা ও প্রজনন অনেক কম প্রতিযোগিতামূলক।

শিম্পাঞ্জিরা একবারে মাত্র টানা ৭ সেকেন্ডের জন্য সঙ্গম করতে পারে। ফলে তাদের পুরুষাঙ্গের হাড় খুবই ছোট। এ থেকে বুঝা যায় বনমানুষদের মধ্যেও বিবর্তনীয় চাপ তৈরি হয়েছে পুরুষাঙ্গের হাড় বিলুপ্তির জন্য।

বানরদের মধ্যেও বহুগামিতা রয়েছে। একটি নারী বানরের সঙ্গে একদিনে একাধিক পুরুষ বানের যৌন মিলন করে। যখন ওই নারী বানরটি উত্তপ্ত থাকে।

পুরুষ শিম্পাঞ্জিদের অণ্ডকোষ খুবই বড় হয়। যা তাদের মস্তিষ্কের আকারের সমান। কারণ তারা একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে মিলনের জন্য প্রচুর শুক্রাণু উৎপাদন করে।

মানুষদের অণ্ডকোষ কিছুটা ছোট। যা থেকে বুঝা যায় মানুষ পুরুষরা একাধিক নারীর সঙ্গে মিলনের জন্য নয় বরং একগামী।

আর এই বেশি একগামী যৌনতা ও প্রজননপদ্ধতির কারণেই হয়ত বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় মানুষ পুরুষরা পুরুষাঙ্গের হাড় হারিয়েছেন। কারণ একগামীদের পুরুষাঙ্গে হাড় থাকার প্রয়োজনীয়তা নেই।





এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close