শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

শুঁটকির কদর বাড়ছে বিদেশে

শনি, ০৪ ফেব্রুয়ারী'২০১৭, ১১:৪২ অপরাহ্ন


শুঁটকির কদর বাড়ছে বিদেশে  
আমাদের দেশে উৎপাদিত শুঁটকি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুঁটকি প্রিয় খাবার হিসেবে সমাদৃত। শুধু বাংলাদেশীদের কাছেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছেও শুঁটকি প্রিয় খাবার। দেশের রপ্তানি পণ্য তালিকায় শুঁটকি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের শুঁটকি মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, বার্মাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শুঁটকি রপ্তানি শুরু হয় কয়েক দশক আগে থেকে। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প পরিমাণে রপ্তানি হলেও সম্প্রতি তা বেড়েছে এবং তা বেসরকারি উদ্যোগে।
 
রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বিদেশের বাজারে যে পরিমান শুঁটকির চাহিদা রয়েছে সেই পরিমাণ রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশে শুঁটকি রপ্তানিতে সরাসরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রপ্তানি আরো বৃদ্ধি পেতো বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্বেও শুঁটকি রপ্তানি বাড়ছে।
 
দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া এবং নাজিরারটেকে বর্তমানে প্রায় ৩০টির মত রপ্তানিমুখী শুঁটকির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় শুঁটকি ডিহাইড্রেড করে রপ্তানি উপযোগী করা হয়। বাংলাদেশ ডিহাইড্রেড সী ফুডস রপ্তানিকারক সমিতি ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ডিহাইড্রেড শুঁটকি রফতানি করে গড়ে প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা আয় করেছে। আমাদের দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কক্সবাজার, টেকনাফ, কুতুবদিয়া, রাঙ্গাদিয়া, মহেশখালী, সোনাদিয়া, খুরুশকূল, ঘোরকঘাটা, চকরিয়া, সেন্টমার্টিন, বাংলাবাজার, কক্সবাজার এয়ারপোর্ট বিচসহ খুলনার বিভিন্ন এলাকায় শুঁটকি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত হয়ে থাকে। সমুদ্র্র উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের অন্যতম পেশা হচ্ছে সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করে শুঁটকি উত্পাদন করা।     
 
তথ্যানুযায়ী, সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার প্রায় দশ লাখ লোক শুঁটকি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে উত্পাদিত শুঁটকির মানের চেয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে উত্পাদিত শুঁটকির গুণগত মান ভালো। এটি স্বাস্থ্যসম্মতও। সামুদ্রিক মাছের শুঁটকির মধ্যে ছুরি, লইট্যা, রূপচান্দা, টেকচান্দা, কোরাল, লাক্ষ্যা, সুরমা, পোপা, মাটিয়া, চিংড়ি, ফাইস্যা, ফাতরা, রিস্যা, হাঙর, রিঠা, বাচা, রুপালী ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি রয়েছে। অপরদিকে মিঠাপানির মাছের শুঁটকির মধ্যে রয়েছে পাবদা, টেংরা, শোল, গজার, পুঁটি ইত্যাদি। ভোজন রসিকদের প্রিয় এবং সুস্বাদু এসব শুঁটকি উচ্চমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। শুঁটকি এখন মাছের বিকল্প খাবার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। শুধু সুস্বাদু খাবার হিসেবে নয়, দেশের পোলট্রি এবং মত্স্য খামারে শুঁটকি ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। 
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাপকভিত্তিতে শুঁটকি রফতানির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সাথে সাথে দেশের শুঁটকি শিল্পে বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে।




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close