শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » জাতীয়

ক্ষুব্ধ রাশিয়া ও ইরান

রবি, ০৯ এপ্রিল'২০১৭, ১১:১৯ অপরাহ্ন


ক্ষুব্ধ রাশিয়া ও ইরান  
সিরিয়ায় মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় ক্ষুব্ধ রাশিয়া ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে কঠোর পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর চুক্তি স্থগিত করেছে। সিরিয়ায় ক্ষেপনাস্ত্রবাহী রণতরীও পাঠিয়েছে রাশিয়া। এদিকে জানা গেছে, সিরিয়ায় আরো হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া সফর বাতিল করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিবিসি, রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের।

ক্ষুব্ধ রাশিয়া ও ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে এই প্রথম রাশিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে এটা তার সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। শুক্রবার জাতিসংঘে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মিত্র দেশ রাশিয়ার উপ-প্রতিনিধি ভ্লাদিমির সাফরনকভ গুরুতর পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন হামলা এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। সিরিয়ার আরেক মিত্র দেশ ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ক্ষেপনাস্ত্র হামলা এই অঞ্চলের চরমপন্থাকে বাড়িয়ে দেবে। গতকাল শনিবার এক বক্তব্যে রুহানি বলেন, আমরা রাসায়নিক হামলার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছি। এই রাসায়নিক অস্ত্র কোথা থেকে আসলো তাও তদন্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বকে ধ্বংস এবং ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে এই ধরনের হামলা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রত্যাখান করা উচিত।

ভূমধ্যসাগরে রুশ রণতরী

মার্কিন ক্ষেপনাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধের না যাওয়ার কথা বললেও সতর্কতা হিসেবে অ্যাডমিরাল গ্রিওগোরোভিচ নামে একটি ক্ষেপনাস্ত্রবাহী রণতরী গতকাল ভূমধ্যসাগরে পাঠিয়েছে। মস্কোর সামরিক এবং কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, রুশ যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কালিবার। এটি তারতুস বন্দরে যাবে। চার হাজার টনের এই রণতরীটি কতদিন সেখানে থাকবে তা জানা যায়নি। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে। এই রণতরীটি কৃষ্ণ সাগরে তুর্কি জাহাজের সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ায় অংশ নেয়।  আরো হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জের ধরে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে,  তারা দেশটিতে আরো সামরিক অভিযান চালাতে পারে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে জাতিসংঘেও তুমুল বিতর্ক হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি বলেছেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ আর নিরস্ত্রীকরণ ব্যাপকভাবেই জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। আমেরিকা এটাই শুধু নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ যেনো কখনো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করেন। এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মানোশিন বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যুদ্ধ এড়ানোর চুক্তি স্থগিত

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রুশ সেনাবাহিনীর সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে এ সংক্রান্ত সমঝোতা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে রাশিয়া আসাদ বিরোধীদের ওপর বিমান হামলা চালায়। কিন্তু হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে। সিরিয়ার একটি শহরে রাসায়নিক হামলার জের ধরে, সিরিয়ার একটি বিমান ঘাটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও, সিরিয়ার কোনো সরকারি ঘাটিতে মার্কিন হামলা এই প্রথম। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। শুক্রবারের ওই অভিযানে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছে।




এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close