শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » সিলেট

বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে গোয়াইনঘাট

সোম, ০১ Jun'২০১৫, ৭:১৩ অপরাহ্ন


বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে গোয়াইনঘাট  
টাইমস অব ঢাকা :  দুদিনের অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ভারতের পিয়াইন ও সারী নদীর ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এই উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ। দেশের বৃহত্তম দুটি পাথর কোয়ারীর কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ নেই এইসব কোয়ারীতে কাজ করা লক্ষাধিক শ্রমিকের।
জানা গেছে, গত দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পিয়াইন ও সারী নদীর ঢলে উপজেলার সর্বত্র প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা আউশ ও আউশের বীজতলা এবং রোপা আউশ ও ইরি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জাফলং ও বিছনাকান্দিতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম দুটি পাথর কোয়ারী বন্ধ রয়েছে। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে পাথর ব্যবসায়ী ও পাথর বহনকারী যানবাহনের মালিকরা পড়েছেন ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যে।
পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা ঢলে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন, আলীরগাঁও ইউনিয়ন, রুস্তমপুর ইউনিয়ন, ডৌবাড়ী ইউনিয়ন, লেঙ্গড়া ইউনিয়ন, তোয়াকুল ইউনিয়ন, নন্দীরগাও ইউনিয়ন ও পশ্চিম জাফলংসহ সর্বত্র তলিয়ে গেছে।
এছাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের দুটি রাস্ত সারী-গোয়াইন ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট রাস্তার বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারদিকে পানি থাকায় এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম। অফিসপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই নগন্য।
গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামছুদ্দিন বলেছেন, ‘তোয়াকুল ইউনিয়ন পুরোটাই তলিয়ে গেছে।’
জাফলং চা-বাগানের নেতা ও ইউপি সদস্য শারবেন মাহালী জানিয়েছেন, বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। শতাধিক শ্রমিকের বসতঘর এখন পানির নীচে। শ্রমিকদের উদ্ধার কাজ চলছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি যদি আরো বৃদ্ধি পায় তবে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চত করে গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘পানি বৃদ্ধির খবর পেয়েছি। প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের বরাবরে ত্রাণের জন্য চিঠি দেব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছি।’
ইতোমধ্যে জাফলং চা-বাগানের শ্রমিকদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ানম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখছি এবং ত্রাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।’





এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close