শিরোনাম :

প্রচ্ছদ » জাতীয়

মাকে লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদকারী জনতার ওপর পুলিশের গুলি, নিহত ২

শনি, ১৯ সেপ্টেম্বর'২০১৫, ১২:০৫ অপরাহ্ন


মাকে লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদকারী জনতার ওপর পুলিশের গুলি, নিহত ২  

টাঙ্গাইলে ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মিছিল বের করলে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এবং পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন।

 

শুক্রবার বিকেলে কালিহাতীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফারুক (৩২) ও কালিয়া গ্রামের আলহাজের ছেলে শামীম (৩৫)। শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফারুক ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।

কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাফুজা ইয়াসমিন দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ধর্ষকের বিচার চেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড ও ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুরে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড ও ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুরে মিছিল বের করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় কালিহাতী থানা পুলিশ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে মিছিলে বাধা দিলে মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়লে সাতজন গুলিবিদ্ধ হন।

 

তাদের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত শামীমকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত বাকি ৬ জনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এদিকে, ফারুকের মৃত্যুর খবরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা।

 

প্রসঙ্গত, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাটাইল উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে আল-আমিন ও তার মাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রোমা ও তার সহযোগীরা। তাদের আটকে রেখে বিবস্ত্র করে মারধরের পরে আল-আমিনের মাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত রফিকুল। ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতা ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

 

শুধুমাত্র বিবস্ত্র করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন কালিহাতি থানা পুলিশ। নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রোমাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় সরকার।





এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন

close